প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
Group---from-Bally-Vabeeনিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বাংলাদেশ কন্সুলেটের উদ্যোগে এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সার্বিক সহায়তায় যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ১৯ মার্চ রবিবার বিকেলে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিন (ও জাতীয় শিশু দিবস) এবং বাংলাদেশের ৪৬ তম স্বাধীনতা দিবস একই দিনে উদযাপিত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও দেশের অগ্রযাত্রায় দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

During-meetingঅকল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারি কনসাল প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভূঁইয়া অনুর সভাপতিত্বে এবং নিউজিল্যান্ড বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সচিব প্রকৌশলী আফজালুর রহমান রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যেন্ড সরকারের সাবেক আইন, ভুমি ও কারেকশান মন্ত্রী অনারেবেল ম্যেট রবসন।

অনুষ্টানে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা করেন নিউজিল্যান্ড বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী নুর জাহাঙ্গীর শেলী, বাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা কৃষিবিদ আব্দুস সালাম, ঢাকা নগরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে তাউরাঙ্গায় উচ্চ শিক্ষারত তরুন প্রকৌশলী সাদ্দাম ইফতেখার প্রমুখ।

বক্তারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিয়ে -- তার আত্মত্যাগের কথা, তাঁর আদর্শের কথা, তাঁর আপোষহীন সংগ্রামের কথা, তাঁর প্রতিবাদী মানসিকতার কথা এবং তাঁর দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানান। জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বক্তারা আরও বলেন বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে শিশুদের গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে এবং একই সাথে বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে বিশ্বশান্তির পাথেয় হিসেবে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে দিতে হবে। আর এ দায়িত্ব প্রতিটি প্রবাসী বাঙ্গালীর।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকে কিংবদন্তি হিসাবে উল্লেখ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্টায় বাংলাদেশের অবদানকে প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের প্রতি তার সহযোগিতার হাত অক্ষুন্ন থাকবে বলে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ভ্রমনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

Refreshment-with-BP-leaders৪৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের বক্তারা বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লাখ শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ গ্রহণের আহবান জানান। তাঁরা বলেন, বাঙ্গালী ও সারা বিশের নিপীড়িত – শোষিত মানুষের প্রতি ভালবাসাই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির মূল দর্শন, যিনি বাংলার মানুষকে ভালোবেসে তিনি একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বাঙালিদেরকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দিক্ষিত করেন এবং স্বাধীনতা এনে দেন।
এরপরে প্রকৌশলী রনি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিক বিবরণ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করেন যা উপস্থিত দেশী ও বিদেশীদের মাঝে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করে। সবশেষে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের এবং জাতির পিতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং সভায় উপস্থিত সবা্ইকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে নিউজিল্যান্ড অনারারি কনসাল সফিকুর রহমান ভূঁইয়া অনু এই মহতী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসেই নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি দিলেও দীর্ঘ ৪৫ বছরে এটিই ছিলো নিউজিল্যান্ডে সরকারী ভাবে বা বাংলাদেশ কন্সুলেটের উদ্যোগে প্রথমবারের মত আনুষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এবং জাতির জনকের জন্মদিন (ও জাতীয় শিশু দিবস) উদযাপন।

সাম্প্রতিক