নাইম আবদুল্লাহ
anisul-sydগত ২০ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সিডনির স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া শাখা “একুশ থেকে বঙ্গবন্ধু মূর্তি উম্মচোন প্রবাসে বাঙ্গালীর আরেকটি আইকন” শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক।

সেমিনারে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত দেশবিদেশ পত্রিকার সম্পাদক বদরুল আলম প্রবাসীদের পক্ষ থেকে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রীপরিষদ সভায় অনুমোদিত দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ এর খসড়া সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, "এই আইনের খসড়ায় প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময়সীমা দুই বছর বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমরা আইনটি যাচাই বাছাই করে নিবন্ধনের কোন নিদিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছি না। প্রবাসীরা যে কোন সময় এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।"

দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনের খসড়ায় ছিল, প্রবাসী নাগরিক হলে তারা ১) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না ২) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারবেন না ৩) বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে পারবেন না ৪) স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে পারবেন না ৫) রাজনৈতিক বা দলীয় কোন সংগঠন করতে পারবেন না।

এই বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান যে, "আমরা আলাপ আলোচনা করে প্রবাসী নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করবো।"

"বাংলাদেশের নাগরিক ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কিংবা সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হওয়া বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থি বিধায় প্রবাসী নাগরিকরা অংশ গ্রহন অথবা নির্বাচিত হতে পারবেন না।"

সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদের কাছে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার ও নাগরিকত্ব আইনের মধ্যে একত্রীকরণ করার যে অনুরোধ এসেছে সে সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, "উত্তরাধিকার আইনের জন্য নাগরিকত্ব আইনের প্রয়োজন নেই এবং নাগরিকত্ব আইনে এই ব্যাপারে কোন নির্দেশনা বা ধারাও রাখা হয়নি। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কোন মুসলমান যদি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি রেখে মারা যান তাহলে মুসলিম আইন মতে তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারদের মধ্যে বন্টিত হবে। তেমনিভাবে অন্য ধর্মের মৃত ব্যাক্তির সম্পত্তি তার নিজ নিজ ধর্মের বিধান মতে বন্টিত হবে। সুতরাং নাগরিক আইনের কোন বিধান উত্তরাধিকার আইনকে ব্যাহত করবে না।"

উল্লেখ্য, দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ এর খসড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়। এটি আইনটি বর্তমানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যাছাইয়ের জন্য আছে। সেখান থেকে মন্ত্রীসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে। মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হলে তা সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

এই আইনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা তাদের নাগরিকত্বের বিভিন্ন অধিকার ক্ষুন্ন হবে আশংকায় ক্ষোভ প্রকাশ সহ বিভিন্ন প্রতিবাদ সভা ও পত্র পত্রিকায় প্রতিবাদ করে আসছিলেন। ইতিমধ্যে নাগরিক হিসেবে নিজ দেশে নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক প্রবাসী দেশে বিনিয়োগও কমিয়ে দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা, কমিউনিটির বিশিষ্ট সূধীজন, সাংবাদিক, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্হিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক