নাইম আবদুল্লাহ:
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়।
গত ১৭ এপ্রিল (সোমবার) সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার যৌথ আয়োজনে 'বৈশাখী মেলা পরবর্তী সুধী সমাবেশ ও সংবর্ধনা' অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান এমপি একথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, '১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১৭ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এদিন ঘোষিত ঘোষণাপত্রে ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। ঘোষণাপত্রে সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদ্যুৎ সিং চুন্নুর উপস্থাপনায় এবং সংগঠনটির সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবি সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন মোল্লা।ÂÂ আলোচনায় অংশগ্রহন করেন- ড. মাসুদুল হক, ড. রফিকুল ইসলাম, ড. কাইয়ুম পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেদ আব্দুল মতিন, বাসভূমি টেলিভিশনের পরিচালক আকিদুল ইসলাম, ফেডারেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রথম বাংলাদেশী শাহে জামান টিটু, সাবেক কাউন্সিলর মাইকেল হাওয়ার্ড, সাবেক কাউন্সিলর প্রবীর মৈত্র, স্টেইথফিল্ড সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর রাজ দত্ত, স্বাধীন কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, ভোরের কাগজের সিডনি প্রতিনিধি কাজী সুলতানা শিমি।
বৈশাখী মেলাকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য শুভেচ্ছা বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ও মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক গাউসুল আজম শাহাজাদা সকল মিডিয়া, বিজ্ঞাপনদাতা, আয়োজক কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তাসহ মেলায় আগত সকল দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ ন হুদা, কার্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. রতন কুন্ডু, কাজী আরমান, সুহৃদ সোহানসহ অন্যান্য সাংবাদিক এবং আওয়ামীলীগ এবং অংগসংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক সামগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে আওয়ামীলীগ ও অংগসংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং মন্ত্রী নিজে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হককে 'নৌকার প্রতীক' ক্রেস্ট উপহার দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন-বিলকিস জাহান, আব্দুল বারেক খান, নিশানা চৌধুরী, আলতাফ হোসেন, নির্মল কস্তা, জাহিদ হোসেন, আবুল বাশার বাসু, জাহাংগীর আলম, আবুল বাশার খান, হাসান সিমুন ফারুক (রবিন), কামরুজ্জামা (লিটন), আবু তারেক বাপ্পি, সাবিত ফয়সাল রিজভি (শাওন), নুর উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম রুবেল, জাকারিয়া স্বপন, সরোয়ার হোসেন, মেহেদি হাসান কচি, মোসলেউর রাহমান খুসবু, তারিকুল ইসলাম, সঞ্জয় টাবু প্রমুখ।
নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
< Prev | Next > |
---|