শহীদ বরকত,সালাম,রফিকের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে বসবাসরত দুই বাঙ্গালী জনাব রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম ২১ শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আবেদন জানিয়েছিলেন জাতিসঙ্ঘে। সেটি ছিল ১৯৯৮ সাল। তারই ফলশ্রুতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারী আজ সাড়াবিশ্বে সকল মানুষের মাতৃভাষা দিবস । সব দেশের সব ভাষাভাষীরা ভাব গাম্ভির্য়ের সাথে পালন করেন এ দিনটি। ফুলের মালা নিয়ে প্রভাত ফেরিতে সামিল হন।
আজাদুল আলম | ২০ ফেব্রুয়ারি
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণ ছেড়ে,
অমর প্রভাত ফেরি,
শাখামাছা হাট হয়ে অতিক্রম করে
রাঙ্গা শিমুল বাড়ি।
চাদর গায়ে আমিনুর স্যার আসেন
কাঁথা গায়ে বনমালী
মৌন আম জনতার সাথে হাটেন
হাতে শিমুল ফুলের ডালি।
দেশের সীমানা মাঠ ঘাট ছাড়ি
পাহাড় পাড়ি দিয়ে,
উপনিত হয় একুশের ফেরি
দক্ষিন মেরুতে গিয়ে।
প্রবাসী বাঙালি সারা রাত জেগে
গাঁথে বর্ণফুলের মালা,
অতি ভোরে শহীদ মিনারে যেতে
মন থাকে উতলা।
গোটা চত্তরে নানান জাতির লোক
যে যেই বর্নেরই হোক
সবাই রয়েছে হেঁট মাথা্ জলচোখ
ভাই হারানোর শোক।
কেউ দাড়িয়েছে চেরী ফুল নিয়ে
কেউ বা অর্কিডের তোড়া,
রক্ত গোলাপ, বেলী ফুল দিয়ে
কাহারো আঁজলা ভরা।
কি যে শিহরন! আজ গোটা বিশ্ব
গাইছে প্রভাত ফেরি,
“আমার ভাইয়ের রক্তে মাখা দৃশ্য
আমি কি ভুলিতে পারি!”
কৃষ্ণবর্ণের ছেলেটি অবাক বিস্ময়ে
জাপানীজ মেয়েটিকে বলে,
“ভাষার জন্য রক্ত দিল অকাতরে
তারা কোন রত্নগর্ভার ছেলে”?
শ্বেতকায় ডেভিডের অটল বিশ্বাস
“যে ভাষা বিশ্ব করেছে জয়,
স্বর্গেও যে তা ভাষার অধিরাজ
নেই এতে দ্বিধা সংশয়,
যে বেহেস্তে শুয়ে আছেন শহীদ রফিক
ও মা রাফিজা খাতুন,
হয়তঃ তার দরজায় লেখা আছে ঠিক
বাংলায় আপনি ভিতরে আসুন”।
বিদেশী বন্ধুর সুভাষিত শ্রদ্ধাঞ্জলী
বিগলিত মনোভাব,
আমার অধর অন্তর উঠে উদ্বেলি
দৃঢ় হয় মনের খোয়াব।
“যতদিন রবে মানুষে মানুষে কথা বিনিময়
ভাবের সুমিষ্ট আনাগোনা
ততদিন জ, আ, ল দিয়ে চলমান রবে,
শব্দের জাল বোনা”।
< Prev | Next > |
---|