স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় বাজেটে গরিব মানুষের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি দাবি করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বিড়ির উপর বাড়তি কর আরোপের প্রতিবাদে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি। অর্থমন্ত্রীই সব অনর্থের মূল দাবি করে তিনি বলেন, এরশাদের সময়ে মুহিত অর্থমন্ত্রী ছিলেন, এরশাদ সাহেবকে ডুবিয়েছে, এবার শেখ হাসিনাকে ডুবানোর জন্য বাজেট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিড়ি শিল্প ও শ্রমিক রক্ষায় এ খাতে সহায়তার কথা বললেও অর্থমন্ত্রী আগামি তিন বছরের মধ্যে এ খাত বন্ধ করে দেওয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করেন মঞ্জুরুল আহসান। আমি প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাবো, আপনার অর্থমন্ত্রীকে ঠেকান। সে ডোবাবে আপনাকে। কোনো পুনর্বাসন ছাড়া বিড়ি শিল্প বন্ধ করা যাবে না জানিয়ে মঞ্জুরুল আহসান বলেন, আজকে বাজেটে হকার উচ্ছেদে পুনর্বাসনের কোনো বরাদ্দ নেই। ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দের কোনো অভাব নেই। শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম। বিদেশি সিগারেট কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় বিড়ির উপর বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে দাবি করে জাসদ নেতা সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, আপনি বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোর স্বার্থ রক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী নীতি গ্রহণ করেছেন। তাহলে আপনাকে বিদায় হতে হবে। দায়িত্বশীল লোক হয়ে দায়িত্বশীল কথা বলবেন।
আমাদের দাবি বহুজাতিক কোম্পানি বন্ধ করেন। অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাকে ‘নব্য মীর জাফর’ উল্লেখ করে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মশিউর-মুহিতের মতো দালালরা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়। বিড়ির উপর কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবা কামাল বলেন, না হলে ঈদের পর আপনার পদত্যাগের জন্য আন্দোলন শুরু হবে। বিড়ির উপর বাড়তি করে ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি সমাবেশে বাড়তি কর প্রত্যাহার, বিড়ি শিল্প বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার, বিদেশি সিগারেট দেশে বন্ধ করতে হবে এবং হাজার প্রতি বিড়ি তৈরির মজুরি ৩১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিড়ি শ্রমিক নেতা হায়দার আলী, লোকমান হাকিম, আবুল হাসনাত লাবলু, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার বিড়ি শ্রমিক অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী বিড়ি শ্রমিকদের রুটি রুজিতে আঘাত দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিড়ি শ্রমিক নেত্রী মায়া। বাজেটে বিড়ির উপর বাড়তি কর আরোপ করা নিয়ে অভিযোগ করেন বিড়ি শ্রমিক নেত্রী মায়া।
সমাবেশে শুধু মায়াই নন, বিড়ি শ্রমিক নেতারা বিড়ির উপর অতিরিক্ত করের ফলে বিড়ি শিল্প যে বন্ধ হওয়ার উপক্রম তা তুলে ধরে গরিব বাঁচানোর দাবি জানান। অতিরিক্ত রাজস্ব আরোপের ফলে বিড়ি শিল্প বন্ধ হয়ে ২০ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে বলে জানান তারা। রংপুর থেকে আসা শ্রমিক নেতা আজিজার রহমান শ্রমিক বাঁচানোর অনুরোধ করে এ এলাকার চিত্র তুলে ধরেন। নেতারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি অমপুরের মা, অমপুরের বোন, অমপুরে দেখেন কী হাহাকার। রোজার দিন ভাত খাইতে পারছি না। রংপুরে আবার মংগা দেখা দেবে। বিড়ির উপর ভ্যাট কমানো না হলে আন্দোলন করে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলে ঘোষণা দেন পিরোজপুর থেকে আসা বিড়ি শ্রমিক নেতা লোকমান হাকিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবা কামালের সভাপতিত্বে সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার বিড়ি শ্রমিক অংশ নেন।
< Prev | Next > |
---|