স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ঈদ ঘিরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী কোচ সঙ্কট নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেলের পূর্বাঞ্চলে ঈদযাত্রায় বিভিন্ন ট্রেনের সাথে ৯১টি কোচ যুক্ত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের টার্গেট ৮৬টি হলেও পাহাড়তলীর কারখানায় কোচ মেরামত সম্পন্ন হওয়ার কথা প্রায় ৯১টি। ওসব কোচ ৪১টি আন্তঃনগর ও মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে যুক্ত করা হবে। স্পেশাল ট্রেন ছাড়াও আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের বরাদ্দকৃত ঘাটতি কোচ হিসেবে সংযোজন করা হবে এসব কোচ। রেলের পূর্বাঞ্চল তথা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও চাঁদপুর রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সবসময়ই কোচ সঙ্কট নিয়ে চলাচল করছে। এবার ৮৬টি কোচ সংযোজনের মধ্য দিয়ে আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনের সিডিউল কম্পোজিশনে অন্তত ঘাটতি থাকবে না বলেই সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাহাড়তলীর রেলওয়ে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণে কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রায় কোচ সঙ্কট নিরসন হবে। ইতিমধ্যে পাহাড়তলী রেলওয়ের কারখানা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের ৫৪টি কোচ শতভাগ সম্পন্নের পর পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আরো ৩২ কোচ মেরামত শেষে আগামী ২০ জুনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। এবার পাহাড়তলী কারখানা সর্বমোট ৮৬টি কোচ মেরামতের টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে। তার মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের কোচ ৫৫টি ও মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ ৩১টি। তারপর আরো ৫টি কোচ অতিরিক্ত মেরামতের সম্ভাবনা রয়েছে। রেলের পূর্বাঞ্চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও চাঁদপুর রুটের বিভিন্ন আন্তঃনগর, মেইল, এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনের সাথে ওসব কোচ যুক্ত হবে। পাশাপাশি যাত্রীসেবা বাড়াতে ঈদযাত্রায় ৫টি স্পেশাল ট্রেন চালু করার কথা রয়েছে। তার মধ্যে ২টি চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের মধ্যে চলাচল করবে রবিবার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। আবার ঈদের পরের দিন থেকে ৭ দিন।
সূত্র জানায়, পাহাড়তলীর রেলওয়ে কারখানা থেকে কোচ ও ওয়াগনের বিভিন্ন ত্রুটি বিচ্যুতি ছাড়াও বড় ধরনের মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ওই কারখানার মেশিনারিগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেখানে শতবর্ষী মেশিনারিজের ব্যবহারও রয়েছে। অথচ কোচ সঙ্কট দূর করতে সারা বছর প্রতিদিন গড়ে আড়াইটি করে কোচ অথবা ওয়াগন মেরামতের পর পরিবহন বিভাগে পাঠানো হয়। কারখানাটির অবকাঠামোগত সংস্কার জরুরি। শতবর্ষী মেশিনারিজ কোচ মেরামতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি ৫৪টি কোচ সরবরাহ করা হয়েছে পরিচালন বিভাগে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ২২টি কোচ দিয়ে ২টি ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালু হবে। চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী ওসব স্পেশাল ট্রেন প্রথমদিন রেল কর্মচারীদের জন্য বহনে ব্যবহৃত হলেও পরের দিন থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে। এভাবে ঈদের পরের ৭ দিনও চলাচল করবে।
এ ব্যাপারে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) প্রকৌশলী এফ এম মহিউদ্দিন জানান, মেরামতের মাধ্যমে আন্তঃনগর ও মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য ৮৬টি কোচ চলনক্ষম করা হয়েছে। তার মধ্যে ১২টি এসি কোচ রয়েছে। নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ঈদযাত্রার সঙ্কট নিরসনে ওসব কোচ মেরামত করে বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজনের সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভাল থাকলে আরো কোচ মেরামত করা সম্ভব। তারপরও কোচ মেরামত এখন টার্গেটের প্রায় দ্বিগুণ।
< Prev | Next > |
---|