চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর ত্রিমোহনী এলাকার একটি বাড়ীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বিশেষ বাহিনী সোয়াটের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ নামের অভিযান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়েছে। এর পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশিদ হোসেন। তিনি বলেন, সোয়াটের অপারেশন ঈগল হান্ট শেষ হয়েছে। জঙ্গি আস্তানা বাড়িটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বাড়ী থেকে জঙ্গি নেতা আবু সহ চার জঙ্গির লাশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এরা সবাই আস্তানার ভিতর আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাড়ী থেকে আবুর স্ত্রী ও এক শিশু সন্তানকে সামান্য আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‘সোয়াট’ অপারেশন শেষ করলেও কাজ শুরু করেছে বম্ব ডিসপোসাল ইউনিট।
এরপর সিআইডি ক্রাইম সিন কাজ শুরু করবে। এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। তবে অন্য নিহত তিনজনের পরিচয় সম্পর্কে ডিআইজি কিছু বলেননি। এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মত পূণরায় ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ শুরু হয়। সোয়াটের অপারেশন সমাপ্ত হবার আগ পর্যন্ত দিনব্যাপী বাড়ীতে শোনা গেছে মূর্হুমুহূ ও থেমে থেমে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির শব্দ। বিস্ফোরণের একাধিক শব্দও শোনা যায়। বারুদের গন্ধ আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া স্থানটি।
সকাল থেকে এলাকায় মহিলা পুলিশ, বোম্ব ডিসপোসাল ইউনিট, সিআইডি ক্রাইম সিন দল, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস দল, এ্যাম্বুলেন্স এমনকি লাশ উদ্ধারের জন্য ডোমদেরও প্রস্তুত রাখা হয়। গত বুধবার ভোর থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আমবাগানের ভিতরে অবস্থিত পাকা একতলা বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ১৪ ঘন্টা ঘিরে রাখার পর কমান্ডো বাহিনী সোয়াটের নেতৃত্তে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শুরু করে ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ নামের অভিযান। প্রায় দু’ঘন্টা অভিযান চলার পর রাতের মত তা স্থগিত করা হয়।
পুলিশ জানায় ঘিরে ফেলার পর সকাল থেকে তাঁদের সাথে ওই বাড়ীতে অবস্থানকারীদের গুলি বিনিময় হয়। সোয়াত বাড়ীর দেয়াল ভেঙ্গে অভিযান চালায়। কয়েক মাস যাবৎ স্থানীয় আবু (৩০) নামে মসলা বিক্রেতা এক যুবক পরিবার নিয়ে ওই বাড়ীতে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যা রয়েছে। তিনি ওই এলাকারই দিনমজুর আফসার আলীর ছেলে। বাড়ীর মালিক সাইদুর রহমান ওরফে জেন্টু বিশ্বাস ওরফে জেন্টু হাজী। আবু এর আগে পাশের এলাকায় স্মশুর বাড়ীতে থাকতেন। নিজ বাড়ীতে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাড়ী ছাড়েন। তাঁর ধর্ম পালন রীতি কিছুটা ভিন্ন। তিনি সৌদি রীতিতে ঈদ পালন করেন।
তিনি স্থানীয় মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়াশোনা করেন। এর বাইরে তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছু জানাতে পারেনি এলাকাবাসী। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বাড়ীতে অবস্থানরতদের হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণের জন্য বারবার বলা হলেও কেউ আত্মসমর্পণ করেননি। আবুর মা ও পরিবারের সদস্যদের দিয়ে বুধবার বিকেলে তাঁকে আত্মসমর্পনের জন্য বললেও তাতে সাড়া মেলেনি। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে এক নারী ও সাড়ে পাঁচটার দিকে এক শিশুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে অবস্থানকারী সিভিল সার্জন ডা. কাজী শামীম আহমেদ এক নারী ও এক শিশুকে ভর্তির বিষযটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাংবাদিকদের হাসপাতালের ভিতর প্রবেশ করতে দেয়নি। পুলিশ ওই দু’জনকে নিহত জঙ্গি নেতা আবু’র স্ত্রী সুমাইয়া ও শিশুকন্যা সাদিকা বলে নিশ্চিত করেছে। সুমাইয়া ডান পায়ের হাঁটুর নীচে বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। আবুকে জেএমবির পুরোনো সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কেউ আহত হবার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটকের কোন সংবাদও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তবে স্থানীরা মঙ্গলবার রাতে দু’জনকে আটকের খবর জানিয়েছেন। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে ফেলার আগে ওই রাতে এলাকার বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি বাড়ীতে তল্লাশী চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় কোন মামলার খবর এখনও জানায়নি পুলিশ।
< Prev | Next > |
---|