স্টাফ রিপোর্টার: সম্প্রতি বন্যায় হাওরাঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ায় নষ্ট হয়েছে সবজি ক্ষেত। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজি বাজারে। মাছ মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সবজির দাম।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর ও হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম ৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টমেটো ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়, পটল ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে আদা-রসুন ও মসলার দাম।
এদিকে মাছের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ২০ টাকা কমেছে খাসির মাংস। গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বয়লার ১৬০ টাকা থেকে কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। ডিমের হালি ২৬ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়। মসুর, বুটসহ সব ডালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে মুগডালের দাম।
মিনিকেট চালের দাম কেজিপ্রতি ১ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. নোমান ও হুসাঈন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি ও বন্যায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে সবজি কম আসছে। বেশি দামে কিনছি তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। কাওরান বাজারে সরকারি কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দীন বলেন, খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেশি রাখছে।
সবজি না আসায় দাম বেশি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছে কয়েকদিন পরে দাম কমে যাবে। পান্থপথ থেকে মাছ কিনতে এসে স্বস্তি প্রকাশ করে গৃহিণী তানিয়া আক্তার বলেন, মাছের দাম আগের মতই আছে। সবজির দাম বেশি রাখছে। শান্তিনগর কাঁচা বাজারে এসে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, গত সপ্তাহে সবজির দাম যা ছিল এ সপ্তাহে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে।
দেশ ডুবে যাচ্ছে এজন্য নাকি দাম বেশি। বেশি হলেও কিনতে হয়। না খেয়েতো আর থাকা যাবে না? এদিকে, শুধু ঢাকা নয়, চড়া দামের কারণে সবজি কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চট্টগ্রামের ক্রেতাদেরও। গত সপ্তাহে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গেল সপ্তাহে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে এখন যেসব সবজির দেখা মিলছে সবই মৌসুমের নতুন সবজি।
তাই দাম কিছুটা বাড়তি। গতকাল শুক্রবার নগরীর চকবাজার, কাজীর দেউড়ি ও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার কাকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৬০-৭০ টাকা, মুলা ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া নতুনভাবে বরবটি, বেগুন, করলা, কচুর লতিও আসতে শুরু করেছে বাজারে। বরবটি ও বেগুন কেজিতে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা ও করলা বিক্রি হয় কেজিতে ৪০ টাকা করে। এ ছাড়া আলু ১৮-২০ টাকা, শশা ৩৫ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। কমেছে লাল শাকের দাম।
বর্তমানে লাল শাক ও মুলা শাকের আঁটি ৫ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। পুঁই শাক প্রতি আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এদিকে বাজারে নতুন সবজি দেখে খুশি হলেও দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে ক্রেতাদের মাঝে। তাদের অভিযোগ রমজানকে সামনে রেখে বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চকবাজার কাঁচাবাজরে সবজি কিনছিলেন সাইফ নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, বাজারে অনেক নতুন সবজি দেখতে পাচ্ছি। যেকোনো নতুন কিছু কিনতে ভালো লাগে। তবে দাম অনেক বেশি। কাজীর দেউড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল রহিম বলেন, গেল সপ্তাহে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে বেশ কিছু নতুন সবজি বাজারে এসেছে। হাটহাজারী, বাঁশখালী ও পটিয়া থেকে এসব সবজি আসছে। নতুন সবজি আসায় দাম তো একটু বেশি হবেই। চকবাজারে সবজি বিক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে পানিতে তলিয়ে গেছে আমাদের অনেক সবজি। নষ্টও হয়েছে অনেক।
সব মিলিয়ে তাই সবজির দাম বাড়তি। এদিকে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজারদর। তবে দেশি মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে দেশি মুরগি কেজিতে ছিল ৩৭০ টাকা, এ সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩৯০ টাকায়। গরুর মাংস ৬০০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এ ছাড়া ডজন প্রতি দেশি ডিম বিক্রি হয় ১২০ টাকা, ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হয় ডজন ৮৫ টাকায়।
< Prev | Next > |
---|