nrbস্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম নিবিড় তদারকির মাধ্যমে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে নতুন খোলা হচ্ছে সততা ও জবাবদিহিতা সেল। ভালো কাজের পুরস্কার ও মন্দ কাজের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সততা ও দক্ষতারও মূল্যায়ন করবে ওই সেল। ইতিমধ্যে এনবিআরের নতুন সেলের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সততাও জবাবদিহিতা সেল এনবিআরের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে এবং প্রতি মাসে একটি রিপোর্ট তৈরি করবে। কেউ ভালো কাজ করলে বা দুর্নীতি করলেই কেবল তা এনবিআর চেয়ারম্যানের দফতরে পাঠানো হবে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে ওসব কাজের মূল্যায়ন করা হবে। ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে আর্থিক পুরস্কার দেয়া হবে। একই সাথে পদোন্নতি ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও দেয়া হবে। তবে অসৎ কাজ করলে তাকে ৭ দিনের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা বা স্বেচ্ছা অবসর দেয়ার মতো শাস্তিও নেয়া হবে। এনবিআরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আরো শাস্তির আওতায় আনতে তার সব অপকর্মের তথ্য-প্রশাণ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তাছাড়া করদাতার সাথে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা, করদাতার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য হবে।

সূত্র জানায়, এনবিআরের সততা সেল নামে একটি সেল থাকলেও তা গতিশীল ছিল না। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা,জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভালো কাজের পুরস্কার প্রাপ্তিতে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এনবিআরে শুদ্ধি অভিযান, হঠাৎ রাজস্ব দফতর পরিদর্শন, যেমন কর্ম তেমন ফলসহ বিভিন্ন নামে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ওসব কার্যক্রমে এনবিআরের অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ইতিমধ্যে শাস্তির আওতায় এসেছে। আবার অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন সৎ ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেও পদোন্নতি বা পুরস্কার থেকে বঞ্চিত ছিল। সম্প্রতি তারা পদোন্নতি বা পুরস্কৃত হয়েছে। এনবিআর কর্মকর্তাদের সততা, জবাবদিহি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি নতুন এ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

সূত্র আরো জানায়, এনবিআরে নতুন ধ্যান-ধারণা নিয়ে গঠিত সততা ও জবাবদিহিতা সেলে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা, তদন্ত অধিদপ্তর ও ভ্যাটের একাধিক প্রতিনিধি থাকবেন। তাছাড়া এনবিআরের প্রশাসন শাখার একাধিক কর্মকর্তাও থাকবেন। ওই সেল ভালো বা মন্দ কাজের জন্য যাচাই-বাছাই করে পুরস্কার বা শাস্তির সুপারিশ করবে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনা হলে সংশ্লিষ্ট শাখার সদস্যের মতামত নেয়া হবে। একইভাবে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হলে ওই সেলের বাইরেও সংশ্লিষ্ট শাখার সদস্যের মতামত মূল্যায়ন করা হবে। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে এনবিআর চেয়ারম্যান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আর কোনো ইস্যুতে বিতর্ক তৈরি হলে অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া হবে। প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেয়া হবে। তবে আরো জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকেও অবহিত করা হবে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান জানান, রাজস্ব আহরণ যারা করবেন তাদের সততা, জবাববিহি থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আবার ভালো কাজ করা ও তার জন্য পুরস্কার না পেলে ভালো কাজ করার উৎসাহ থাকে না। এনবিআরের বর্তমান কৌশল যেমন কর্ম তেমন ফল। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ করাটা অত্যন্ত কৌশলের কাজ। ওই কাজে দক্ষতা একান্ত অপরিহার্য। তাই এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণে জোর দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক