স্টাফ রিপোর্টার: নির্ধারিত ১৭টি পণ্যে পাটের মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আজ সোমবার থেকে সারা দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে। হাই কোর্টের স্থগিতাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা না করা গেলে সাধারণ আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় টানা এই অভিযান চলবে বলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম জানিয়েছেন।
সচিবালয়ে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে হাই কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও আমরা বিশ্বাস করি আজকের (রোববার) মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত হয়ে যাবে। আজকের মধ্যে কিছু না হলে সাধারণ আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করব। হাই কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় আমরা একটুও বিচলিত নই। আগামীকাল (সোমবার) থেকেই অভিযান শুরু হবে। কাউকে (তাৎক্ষণিক) জেল বা জরিমানা দেওয়া যাবে না, তবে অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা নাই।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পাট অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযান চলবে জানিয়ে মির্জা আজম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা না গেলে স্বাভাবিক আইনে থানায় মামলা হবে, চার্জশিট হবে, জেল-জরিমানা হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে গত ১১ মে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাই কোর্ট। তবে চেম্বার আদালত এই রায় ১৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে আপিল বিভাগে নিয়মিত শুনানির জন্য পাঠিয়েছে। ফলে আপাতত পাটের মোড়ক নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা নেই।
ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহনে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে ২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর আদেশ জারি করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, আলু, আটা, ময়দা, মরিচ, হলুদ, ধনিয়া এবং তুষ-খুদ-কুড়ার মোড়ক হিসেবে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। দুই দফায় ১৭টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যধ্যতামূলক করে সরকার।
‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন’ অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত পণ্যে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ- হবে। একই অপরাধ আবার করলে সাজা হবে সর্বোচ্চ দ-ের দ্বিগুণ।
বিশেষ অভিযান সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহাপুলিশ পরিদর্শক, ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত পণ্য আমদানি ও রপ্তানিকালে পাটজাত পণ্য দ্বারা মোড়কীকরণ না করা হলে আইআরসি এবং ইআরসি বাতিল হবে মর্মে শর্তারোপ করেছে।
এছাড়া পাটের ব্যাগে মোড়কীকরণ না করলে চাতাল মিল মালিকদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করেছে বলেও জানান মির্জা আজম।
পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০ টাকার একটি প্লাস্টিক ব্যাগে একবারই মালামাল পরিবহন করা যায়। আর ৪৫ টাকার একটি পাটের ব্যাগে ৪ থেকে ৫ বার মাল পরিবহন করা যায়।
টাকা কম লাগলেও প্লাস্টিকের ব্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য ক্ষতি করছে উল্লেখ করে আজম বলেন, প্লাস্টিকের জন্য জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, নদীর তলদেশ ভরে যাচ্ছে, ড্রেনেজ সিস্টেম কলাপস করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয় জানিয়ে পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ শতাংশ পাটও দেশে ব্যবহার করতে পারি না। যেসব দেশে পাটপণ্য রপ্তানি করি ওইসব দেশের অবস্থা যদি ভাল থাকে তাহলে পাট রপ্তানি হয়। যুদ্ধ লাগলে বা সামরিক শাসন জারি হলে কিংবা অর্থনৈতিক মন্দাভাগ দেখা দিলে পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।ৃ পাটের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়াতে পারলে রপ্তানির ওপর নির্ভর করতে হবে না।
মির্জা আজম বলেন, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন’ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশে উৎপাদিন পাটের ৩৫-৪০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যবহার হবে, রপ্তানি নির্ভরতা আর থাকবে না। ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে এক হাজার ৬০৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একা কোটি ৫১ লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং ২ জনকে কারাদ- দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের জুলাই থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত আরও ৮৪৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
< Prev | Next > |
---|