(এ.কে.এম শামছুল হক রেনু)
সাবেক সেনাপ্রধান সামরিক শাসক রাষ্ট্রপতি আন্দোলনে তাড়িত ৯০ এর পতিত সরকার, বর্তমান সংসদ সদস্য, মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিদেশ দূত, ত্রিশংকু জাপার (বিজেপি, জেপি, জাপা) চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোটের অন্যতম শরিক এ.এইচ.এম এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও মহাজোট থেকে পদত্যাগ না করেই সাইনবোর্ড বিহীন ৫৮টি দল যাদের মধ্যে ৫৬টিরই দলীয় নিবন্ধন নেই, এই গায়েবী দল নিয়ে ০৭/৫/১৭ ইং রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) নাম দিয়ে দেশের রাজনৈতিক দরবারে নতুন জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। দেশের মানুষ এই জোটকে গায়েবী ৫৮ দলের বিশাল জোট হিসেবে মনে করে এবং এ ব্যাপারে অনেকেই বেরসিক মন্তব্য করতেও দ্বিধা সংকোচ ও কুন্ঠাবোধ করছে না।
এই গায়েবী জোটের আত্মপ্রকাশের দিন উপস্থিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদেরকে যথেষ্ট আপ্যায়ন করা হলেও অনেকেই এরশাদের নেতৃত্বাধীন এই নতুন জোটকে গায়েবী ৫৮ দলের বিশাল জোট বলে আখ্যায়িত করতে কুন্ঠাবোধ করছেনা। আবার অনেকে বলেছেন এটাই ডিগবাজিকর এরশাদের শেষ তামাশা নয়। সামনে আরো তামাশার কথা ভেবে এখনই নাকি জল্পনা কল্পনার ইতি টানতে চাচ্ছে না। এইচ.এম এরশাদ এ পর্যন্ত অনেক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। সর্বোপরি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর দশম সংসদ নির্বাচনে ডিগবাজিকর হিসেবে আরেকটি খেতাব লাভ করেছেন। ইংরেজী ২০১৭, হিজরী ১৪৩৮ ও বাংলা ১৪২৪ সালের নববর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ যেতে না যেতেই তিনি গায়েবী ৫৮ দলের বিশাল জোট গঠন করে গায়েবী জোট নেতা হিসাবে অলংকিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে অনেকের মতো কোন মন্তব্য না করে আরো কিছু খেতাবের পর মন্তব্য করার চিন্তাকে অবধর্মিত করছি না। এ নাটকের পেছনে কি যোগসূত্র ও অভিসন্ধি রয়েছে তার ভাবনাও ফুড়িয়ে যায়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে যেমন কিছু তামাশা ছিল এটাও এমন ধরণের কিছু হতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা। ২৩ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল ৫ দিন এরশাদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটার পৈতৃক আদিবাড়ী থেকে ফিরে এসেই একাজটা করেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এরশাদ পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে লংকোর্স ট্রেনিংয়ে ভারতে যান এবং সেখান থেকে সামরিক বিভাগে পদোন্নতি এবং মহাজোটে যোগদানের আগেও বেশ কিছুদিন ভারত সফর করে আসেন। তাছাড়া এবার তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরে এসে গণমাধ্যমকে এমন কিছু কথা বলেছেন, যে কারণে দেশের শ্রেণী পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তিনি নিজেই কিছু সন্দেহের বীজ বপন করেছেন। যা দৈনিক যুগান্তরে ৪ মে ২০১৭ ইং বৃহস্পতিবার প্রথম পৃৃষ্ঠায় “নির্ভার এরশাদ” এমন একটি শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২০১৯ সালের
চলমান পাতা/২
পাতা: ২
নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ যখন অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে ক্ষত বিক্ষত ও বিএনপি যখন কিছুটা তটস্থ এই মূহুর্তে ভোটের রাজনীতি ও নানা সমীকরণে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদোপরি এই সংবাদের সাথে এরশাদের মুখ খোলে গাল ভরা হাঁসি অনেকেরই নজর কেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেছেন, ৩০০ আসনে তিনি প্রার্থী দেবেন এবং কম করে হলেও ১৫১টি আসনে জয়লাভ করবেন। তিনি আরো বলেছেন আমাকে ছাড়া কেহ সরকার গঠন করতে পারবে না। নির্বাচনের ট্রাম্প কার্ডটি এখন আমার হাতে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো আমার কোন টেনশন নেই। ক্ষমতায় যাওয়ার আগাম টিকিট এখন আমার হাতে। তিনি আরো বলেছেন দীর্ঘ একুশ বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে হয় জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে হয় জার্টির পার্টির সাথে মহাজোট করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার বৈধতা পায় জাতীয় পার্টির কারণে। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে চার দলীয় জোট গঠন করে বিএনপি। ২০০৮ সালে মহাজোটের শরিক হিসেবে নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বর্তমানে সংসদের বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে জাতীয় পার্টি। অর্থাৎ বর্তমানে এরশাদের ভাবটা এমন তিনি যেন এক সময়ের মুষ্টিযুদ্ধের কিংবদন্তির মহানায়ক মোহাম্মদ আলী ক্লের মতো। তিনি যেন বাংলাদেশের রাজনীতির কিংবদন্তির মহানায়ক। তিনি আরো বেশী প্রফুল্ল এ কারণে যে, দীর্ঘ ২৫ বছরেরর বেশী সময় ঝুলে থাকা রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা ও রাষ্ট্রপতির নামে পাওয়া উপঢৌকন মামলা থেকে যথাক্রমে ১৯ এপ্রিল এবং ৯ মে ২০১৭ ইং বেকসুর খালাস পেয়েছেন। কিন্তু তিনি হয়তোবা ভেবে দেখেননি জিয়া হত্যার ঘটনায় জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলাসহ অন্য মামলা থেকে তিনি এখনও রেহাই পাননি। জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় ব্রিটিশ সাংবাদিক লিফৎসুলজ এরশাদসহ অন্যান্যদের জড়িয়ে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা পড়ে রক্ত মাংসের যে কোন সুস্থ্য মানুষ উচ্চ রক্তচাপে না ভোগলেও একেবারে টেনশন না থাকার কথা নয়।
আদ্যোপান্ত সব কিছু দেখে শুনে এরশাদ সম্পর্কে অনেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে পারছেনা বলে আপাততঃ তাকে গায়েবী ৫৮ দলের জোট নেতা হিসেবে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেকেই আবার সাইন বোর্ড বিহীন ৫৮ দলের থলের বিড়াল সম্পর্কেও যথেষ্ট আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করছে। কবে তাদের মধ্যে কেহ বলে থাকে আমি কার খালুগো। তবে এ কথা সত্য অনেকেই মনে করে এরশাদ গায়েবী ৫৮ দলের নতুন জোটের চেয়ারম্যান হওয়াতে জাতীয় পার্টি যেমনি সরকার সমর্থিত মহাজোটে থাকার অধিকার হারিয়েছে, তেমনি মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিদেশ দূতের পদ এমনকি তার দলের একজনের মন্ত্রীত্ব ও দুই জনের প্রতিমন্ত্রী পদ থাকার কোন কারণ অবশিষ্ট আছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন না। এরশাদ নিজেকে যাহাই ভাবুন না কেন, তিনি গায়েবী ৫৮ দলের জোটের চেয়ারম্যান হওয়াতে সাংবিধানিকভাবে সরকার হতে কত দূরে চলে গেছেন তা এখনই সকলের ভেবে দেখা উচিত। সংবিধানকে পাস কাটিয়ে অনেক কিছু হয় না বলেই দেশে আজো কোর্ট, আদালত ও বিচার বিভাগ রয়েছে।
৩ মে, বুধবার জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে এরশাদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন। তারপর বলেছেন, শুধু আমিই নই বাকিরাও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি আরো বলেছেন, আমরা না বিরোধী দল না সরকারী দল। অর্থাৎ না ঘটকা না কানা। দেশের মানুষের মাঝে আমাদের দলের ভূমিকা নিয়ে হাজরো প্রশ্ন কাজ করে। এদিকে সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রীদের ব্যাপারে এটা নাকি সর্বশেষ ফরমান। এর অন্যথা হলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানা যায়। ০২/৫/১৭ ইং মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় বিরোধী দলের নেতা ও দলের কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ তাদেরকে অবিলম্বে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। তাছাড়া সংসদীয় দলের সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যরাও এরশাদ ও রওশন এরশাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য মন্ত্রীদের প্রতি আহবান জানান। যা দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ০৪/৫/১৭ ইং বুধবার প্রকাশিত হয়। তদোপরি দলের চেয়ারম্যান দলের কো-চেয়ারম্যান, দলের প্রেসিডিয়াম, দলের সংসদ সদস্যরা জাতীয় পার্টির বিভিন্ন সভা সমাবেশে এমনকি তৃণমূলের জেলা উপজেলা নেতাকর্মীরা মন্ত্রী সভা থেকে তাদের পদত্যাগের জোর দাবী জানানোর পরও কেন তারা পদত্যাগ করছেন না এ ব্যাপারে জনমনে নানা প্রশ্নই নয় এ নিয়ে রসিকতাও কম হচ্ছে না। অনেকে মনে করে এর পেছনে রহস্য ও যে কোন অন্তর্নিহিত কারণ রয়েছে। তা না হলে দলের চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, সংসদীয় কমিটি, জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ পরিষদ প্রেসিডিয়াম ও সারা দেশের জেলা উপজেলা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দীর্ঘ ২ বছর যাবৎ মন্ত্রীদের পদত্যাগের কথা বলার পরও এ পর্যন্ত এই ইস্যুটি এখনো ঝুলন্ত (ঐধহমরহম) বলে অনেকেই ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছে না।
এরশাদ সেনাবাহিনী প্রধান থেকে কিভাবে ৮২ সালের ২৪ মার্চ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে সকল দলের রাজনৈতিক দরজা জানালা রুদ্ধ করে এবং গণতন্ত্রের সকল কলকব্জা বন্ধ করে সিএমএলএ সচিবালয়ে বসে ১৮ দফা নতুন
চলমান পাতা/৩
পাতা: ৩
বাংলা জনদল গঠন করেছিলেন এই ইতিহাস যেমন কারো অজানা নয় তেমনি ১৯৮৬ সালে বিএনপি বাদে আওয়ামী লীগকে নিয়ে একতরফা সংসদ নির্বাচন, ৮৮ সালে কপ নামের সাজানো (পড়সনরহবফ ড়ঢ়ঢ়ড়ংরঃরড়হ ঢ়ধৎঃু) সম্মিলিত বিরোধী দল নিয়ে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠন করেছিলেন এবং কিভাবে ৭ দল, ১৫ দল, ৫ দল ও ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নিজে স্বৈরাচারের খেতাব ও দলকে গণদুশমন আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে কারাগারে গিয়েছিলেন তা কারো অজানা নয় বিধায় সেদিকে যেতে চাচ্ছি না। তার পরের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট দেশের মানুষ ও নেতা কর্মীদের নিকট বিষাদের পাহাড়। তিনি সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা, রাতে ঘুমে যাওয়ার আগে অন্য কথা, ঢাকায় এক কথা, সিলেটে অন্য কথা এবং রংপুরে আরেক কথা বলে নিজেই নিজেকে সমুদ্রের ভাসমান ফেনার মতো (ঋষড়ধঃরহম জরভং) হালকা করেছেন। শুধু তাই নয়, তার পতনের পর জনৈক ব্যাংকারের স্ত্রী মমতাজ মরিয়ম মেরী সম্পর্কে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রচ্ছদে বেরসিক সংবাদ, সংবাদ প্রতিবেদন ও মিডিয়ার দর্শন দেশের মানুষকে অবাক করে দেয়ার পর আবার কিছু দিন পর বিদিশা নাটক করে পুনরায় দেশের মানুষের নিকট নিজের প্রতিচ্ছবি নিজেই উন্মোচিত করেছিলেন। এরশাদের ললাটে এমন কলংক লেপন হোক দেশের মানুষ তা কল্পনাও করেনি। তবে তার সহধর্মিনী রওশন এরশাদকে ক্ষমতায় গিয়ে ফাস্ট লেডী করে আলাদা সচিবালয় করে দেয়া হয়। কিন্তু যখন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া নির্বাচনে গেলে আমাকে দেশের মানুষ থুথু দেবে এবং এক সময় থুথু বাবা বলবে একথা বলার পরও সিএমএইচ ও কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে নাটক করে বিএনপি বাদেই একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনে গিয়ে সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, সহধর্মিনীকে সংসদের বিরোধী দলের নেতা, একজনকে সরকারের মন্ত্রী ও দুইজনকে প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন। তারপর কি যেন উপলব্ধি করে তিন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করার কথা বলছেন এবং পদত্যাগ না করলে দল থেকে বহিষ্কারের কথাও বলেছেন। এ ব্যাপারে এরশাদ ও সহধর্মিনী রওশন এরশাদ ও ভাই জিএম কাদেরের মধ্যে সিদ্ধান্তের দীর্ঘ ফাটল ছিল বলে গণমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমের পুরনো কপি ও কথোপকথনের ভিডিও চিত্র অনেকের মতো নতুন করে চোখ মেলালে হয়তোবা বোধদয় অস্বাভাবিক নয়। তাই মন্ত্রীদের ব্যাপারে এরশাদের সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্পর্কে কবিতার পংক্তির রেশ ধরে বিভিন্ন টেবিলে, প্রেসক্লাবে, রাজনৈতিক দরবারে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অনেকেই বলে থাকে এতক্ষণে অরিন্দম কহিল কি যেন বিষাদে।
৫৮টি দলের মধ্যে ৫৬টি অজানা, অচেনা, অনিবন্ধিত হরেগঙ্গা, লারেলাপ্পা এমনকি সাইনবোর্ড বিহীন দল নিয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) গঠন করার পর এরশাদের দল (জাতীয় পার্টি) সম্পর্কে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মহাজোট, জোট, দেশের সুশীল সমাজ, রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পেশাজীবি, শ্রমজীবি, বুদ্ধিজীবি থেকে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র কথোপকথন লক্ষ্য করা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে (ংঁনলবপঃ সধঃঃবৎ) দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মনে করে থাকে সাইন বোর্ড ও প্যাড সর্বস্ব দলের অন্য কিছু না থাকলেও, দরজীর দোকান, মোদির দোকান, হাট বাজার ও এখানে সেখানে সাইন বোর্ড দেখা গেলেও সম্মিলিত জাতীয় জোটের ৫৬টি দলের কথা ভেবে কেহই কোন কুল কিনারা পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকের মন্তব্য ০৮/৫/১৭ ইং সোমবারের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে তাদের মন্তব্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে না গেলেও এতটুকু বলা যায় তাদের মন্তব্য এরশাদের আগামী দিনের জন্য খুব একটা আশাব্যঞ্জক নহে। যদিও রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। তবে এ কথা বলা চলে, ন্যাড়া যেমন বারবার বেলতলা ও তালতলায় যায় না, তেমনি আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে যে যাহাই করুক না কেন সম্ভবতঃ একটু বুঝে শুনেই করবে। কথায় বলে ুড়ঁ পধহ ভড়ড়ষ ংড়সব ঢ়বড়ঢ়ষব ভড়ৎ ংড়সব ঃরসব নঁঃ ুড়ঁ পধহহড়ঃ ভড়ড়ষ ধষষ ঢ়বড়ঢ়ষব ভড়ৎ ধষষ ঃরসব অর্থাৎ তুমি কিছু লোককে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারো, কিন্তু সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারোনা। ‘লিভ মি মাদার লেট মি ক্রাই’ ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি এই উক্তি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ব্যাপক ও সম্প্রসারিত। এর আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যা বিশ্লেষনে না গেলেও, ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বলা যায়, “হনুয দিল্লী দুর অস্ত” দিল্লীকা লাড্ডু অনেক দুর। দেশের মানুষ আরো কিছু দেখার প্রত্যাশায় অপেক্ষমান।
(এ.কে.এম শামছুল হক রেনু)
লেখক কলামিষ্ট
< Prev | Next > |
---|