motamotআহমদ রফিক
বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি হঠাৎ উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠেছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়া ও কিছু উগ্র কথাবার্তা। চীন উত্তর কোরিয়ার একদা আদর্শিক সমর্থক হলেও সেখানকার বর্তমান শাসকের উগ্র ঘোষণাদির পক্ষে নয়। তাদের চেষ্টা কোরীয় নমনীয়তার পক্ষে। সম্প্রতি রাশিয়াও এ বিষয়ে সচেতনতার প্রকাশ ঘটাতে শুরু করেছে। হয়তো এর কারণ হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার আসনে এখন এক খ্যাপাটে মানুষের অবস্থান, যার সম্পর্কে শেষ কথা বলা বড় কঠিন।
বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ কেউ চায় না নতুন করে একটা ভয়াবহ চরিত্রের যুদ্ধ বাধুক। কারণ এ ক্ষেত্রে সেটা ইরাক যুদ্ধ হবে না, হবে আঞ্চলিক আণবিক যুদ্ধ, যার পরিণতি বিশ্বের মানবসভ্যতার জন্য হবে ভয়াবহ। সংগত কারণে সন্নিহিত দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। অন্যদিকে হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বৈশ্বিক উত্তেজনার পারদ ওঠানামা করছে। উত্তেজনা কোরীয় উপদ্বীপেও। পশ্চিমা রাজনৈতিক শক্তি এ জন্য দায়ী করছে উত্তর কোরিয়াকে। তারা কিন্তু কোরীয় জাতিসত্তা অধ্যুষিত ভূখ-টিকে বিভক্ত করা ও বিভাজিত একটিতে বিদেশি সৈন্য মোতায়েন রাখার অনধিকার ও অগণতান্ত্রিকতা নিয়ে কোনো কথা বলছে না। স্মরণ করছে না বিভাজনের অনৈতিকতা। অথচ বিভক্ত জার্মানি নিয়ে প্রচারণার অভাব দেখা যায়নি।

দুই.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপুল মানবিক ও জাগতিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে একটিই সদর্থক বিষয়Ñমিত্রশক্তির জয় এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির পরাজয়। একই পরিণামে ঔপনিবেশিক রাজশক্তিগুলোর অর্থনৈতিক দুস্থ অবস্থা ও ক্রমান্বয়ে উপনিবেশ হারানোর ফলে জাতীয় সমৃদ্ধির গভীর ক্ষয়। ব্রিটেন, ফ্রান্স প্রভৃতি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের যুদ্ধোত্তর পিছু হটার মধ্যে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অভিধায় নব্য পরাশক্তি হিসেবে, শাসকশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আবির্ভাব, বলা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দান। এমন এক পরিস্থিতির টানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব মোড়ল হয়ে ওঠা।
সে প্রক্রিয়ার শুরু বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম লগ্ন বা মিত্রশক্তির জয় ঘোষণার পর থেকেই। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে শক্তিমান শরিক যে যুক্তরাষ্ট্র চার্চিলের কুমন্ত্রণায় মিত্রশক্তির অগ্রগতি বাড়াতে দ্বিতীয় ফ্রন্ট খুলতে টালবাহানা করে আরেক শরিক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভূত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধজয়ের ফল ভাগে ও ফল ভোগে চতুর নায়কের ভূমিকা নিয়ে পাশার দান ফেলেছে। সমর্থনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চানক্য-রাজনীতিক উইনস্টন চার্চিল।
তড়িঘড়ি থাবা বসিয়ে পরাজিত জার্মানির শাঁসালো পশ্চিমাংশ দখলে নিয়ে বিভাজন ঘটাল জার্মানির। পিছু হটেনি রাশিয়া এ ভাগাভাগিতে। কারণ এ যুদ্ধে তাদের সর্বমাত্রিক ক্ষয়ক্ষতি ছিল সর্বাধিক। যেমন জনশক্তির দিক থেকে, তেমনি অর্থনৈতিক দিক থেকে। লাগাতার জার্মান বোমার আঘাতে ধ্বংস হয় জীবন, জনপদ ও শিল্প-কারখানা। এ ভয়াবহতার শিকার হয়নি ব্রিটেন বা যুক্তরাষ্ট্র। এ আগুনের আঁচ লাগেনি তাদের ভূখ-ে।
এ তো গেল ইউরোপের কথা। এশিয়ায় এ যুদ্ধের বিলম্বিত অবসান ফ্যাসিস্ট শক্তি জাপানের পরাজয়ে (১৯৪৫)। পূর্বোক্ত ধারায় জাপান অধিকৃত কোরিয়ায় রুশ-মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতির পরিণামে বিভাজিত হয় কোরিয়া উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে। কোরীয় জাতিসত্তার সমর্থন ছিল না তাদের দেশভাগে। মার্কিন রাজনৈতিক খেলায় এবং জাতিসংঘের খবরদারিতে বিভক্ত কোরিয়ার স্থায়ী রূপ মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শের টানে। উত্তর কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে দক্ষিণকে দূরে রাখতে সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থায়ী অবস্থান ও গণতন্ত্রের নামে পুঁজিবাদী মতাদর্শের আরোপ নিশ্চিত করা হয় পরবর্তী কয়েক বছরের ঘটনাবলিতে, এমনকি তাৎক্ষণিক যুদ্ধ তৎপরতায়।
এর পেছনে ছিল মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদী রুজভেল্ট-উত্তর শাসনের উগ্র-আধিপত্যবাদী ম্যাকার্থিবাদের জবরদখল নীতি। পরাজিত জাপান ভূখ-ের মতো দক্ষিণ কোরিয়ায়ও মার্কিন সেনাবাহিনীর অবস্থান কথিত গণতন্ত্রীরা, এমনকি জাতিসংঘ কোন যুক্তিতে মেনে নেয়, সেটাই বড় প্রশ্ন। দক্ষিণ কোরীয় শাসকদের পুতুল সরকার পরিচালনা ভিন্ন গত্যন্তর ছিল না। অথচ প্রথমে সোভিয়েত ইউনিয়ন, পরে স্বাধীন চীন এ সংঘাতে জড়িত থাকার পরও তাদের কারো সেনাবাহিনী উত্তর কোরিয়ায় মোতায়েন থাকেনি। বিস্ময়কর ঘটনা যে পরবর্তীকালে আফগানিস্তানে মার্ক্সবাদী শাসক নজিবুল্লাহর সমর্থনে রুশ সেনা মোতায়েন (যা সঠিক ছিল না) উপলক্ষে ইঙ্গ-মার্কিন, এমনকি চীনেরও কী কঠিন প্রতিবাদ। আফগানিস্তান পরিণামে এখন এক ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত রাষ্ট্র, যার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ছিনতাই করা হলো।
সেই থেকে কোরীয় জাতিসত্তা দুই রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভাজিত জীবন যাপন করছে। চীন উত্তর কোরিয়ার সমর্থক হয়েও উগ্রপন্থার অনুসারী নয়। এরই মধ্যে ‘একলা চল’ নীতিতে পরিচালিত উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক শক্তি অর্জন করেছে, চালাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। উত্তর কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বে অনেক প্রচারণা তাঁর খ্যাপাটেপনা নিয়ে। এর কতটা সত্য আর কতটা বানোয়াট, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এটা ঠিক যে বিশ্ব এখন উদ্বিগ্ন হোয়াইট হাউসের খ্যাপাটেকে নিয়ে। হিলারি ক্লিনটনকে যুদ্ধবাজ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প নিজেই এখন যুদ্ধবাজের ভূমিকায়। প্রমাণ সম্প্রতি সিরিয়ায় মার্কিন হামলা। কে বলতে পারে উত্তর কোরিয়ায় ট্রাম্প হামলার হুকুম দেবেন না!

তিন.
উত্তর কোরিয়া ও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র যুদ্ধবাদী রাজনীতি নিয়ে সংগত কারণে বিশ্ব পরিসরে লেখালেখি চলছে। একসময় দুই কোরিয়ার একত্রীকরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল বিভক্ত দুই ভূখ-ের শাসকদের মধ্যে। কিন্তু নেপথ্যে যেখানে আধিপত্যবাদী পরাশক্তি, সেখানে ঐক্য এক অসম্ভব শব্দ। তাই ঐক্য কোরীয় বাতাসে ভেসে গেছে। দুই জার্মানির ঐক্যে প্রবল আগ্রহ ছিল পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদের, তাই ছলে-বলে-কৌশলে তা কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু কোরিয়া বিভক্ত থাকলেই পশ্চিমা পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষা হয়। কারণ এর ফলে চীনের নিকট-সান্নিধ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়। বাস্তবে তা আছেও।
উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে আমাদের গণমাধ্যমের আলোচকদের এসব প্রেক্ষাপট বিচার-ব্যাখ্যা-বিবেচনায় আনতে কমই দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বা শান্তিনীতি তো একই ধারায় রচিত হওয়া উচিত। যা আফগানিস্তানের জন্য বেঠিক ও প্রতিবাদযোগ্য তা দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও সত্য। কিন্তু সা¤্রাজ্যবাদী বিভক্ত বিশ্বে বুদ্ধিজীবী বা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভাজিত। তাই বিচার-ব্যাখ্যায় একদেশদর্শিতা প্রাধান্য পায়। সত্য সর্বদা যুক্তিতে প্রকাশ পায় না।
তবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও চমস্কিদের মতো কেউ কেউ আছেন, যাঁরা বা যিনি পশ্চিমা প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের বিশ্লেষণে মূল সত্য উদ্ঘাটন করতে ইচ্ছুক। এমন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইক হুইটনি বেশ সরস ভাষায় মজাদার উপমা টেনে বলতে চান যে উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ‘গাজর ও লাঠি’ নয়, বরং শুধুই লাঠি এবং সেটা অনেক বড় লাঠি।
তিনি আরো মনে করেন, ‘হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ায় কার্যসিদ্ধি করতে চেয়েছে। কিন্তু অন্তত এ ক্ষেত্রে তাতে ফল মেলেনি। উত্তর কোরিয়ার হাতে এখন আণবিক বোমা, আণবিক অস্ত্র মজুদ রয়েছে। কাজেই সে পাল্টা হুমকি দিতে পারছে, বলতে চাইছে, একটা সুইচ টিপে সিউল বা টোকিওতে নরকের খেলা শুরু করতে পারে। অসার হুমকি নয়, এটাই বাস্তব সত্য। ’
উত্তর কোরিয়ার এই উগ্রবাদী নীতির মূল কারণ খতিয়ে দেখতে চাইলে ওয়াশিংটনের বিরূপ প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রনীতি সমালোচনায় আসবেÑএটাই স্বাভাবিক। বিপরীত মতাদর্শের ক্ষেত্রে এ ধরনের চাপ সৃষ্টির নীতিতেই যুক্তরাষ্ট্র বরাবর অভ্যস্ত। কিউবা একটি বড় উদাহরণ। হোয়াইট হাউসে আসীন যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টরা বরাবর এমন বিদেশনীতিই অনুসরণ করেছেন। ভিন্ন মতাদর্শের ক্ষেত্রে কথিত উদারনৈতিকদেরও দেখা গেছে একই রা।
ইদানীং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে শান্তিবাদী সহাবস্থানের পক্ষে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যদিও বিরল সেসব কণ্ঠস্বর। এ ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিশ্লেষক স্পষ্ট ভাষায়ই বলেছেন, ‘৬৪ বছর ধরে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে বাজে, ভুলনীতি অনুসরণ করছে। যে নীতির পরিণামে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ হয়ে ওঠা। এখন সময় এসেছে নীতি বদলের। পুরনো ভুল নীতি শোধরানোর।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যুদ্ধবাজ, খ্যাপাটে ইগল এখন হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার আসনে বসেই খেয়ালখুশিমতো আচরণ শুরু করেছেন। আর সে জন্যই খোদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বত্র মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, কখন যে কী হয়, কে জানে! সে জন্যই রাজনীতিমনস্ক লেখকদের উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে তাঁদের রচনার বিশেষ বিশেষ শিরোনামে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এক অধ্যাপকের রচনার শিরোনাম ‘যুক্তরাষ্ট্র কি পুনরায় যুদ্ধে ফিরছে?’ ট্রাম্পের মতিগতি নিয়ে তাঁর সংশয়, ভয় সংগত মনে করি। কারণ ট্রাম্প যুদ্ধনীতি সম্পর্কে তাঁর নির্বাচনকালের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে যুদ্ধবাদী নীতিই গ্রহণ করেছেন। ওবামা যেখানে হাত গুটিয়ে বসেছিলেন, তিনি সেখানে বোমারু নীতির প্রবক্তা, প্রমাণ সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
তাতে মহাখুশি সংশ্লিষ্ট দল বা রাষ্ট্র, যেমন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। আর এই ধারাতেই ট্রাম্পের হুমকি উত্তর কোরিয়াকে। বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে কোরীয় অঞ্চলে। লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনা। এ আশঙ্কাতেই চীন খ্যাপাটে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্টকে উগ্রনীতি পরিহার করার পরামর্শ দিচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি চীনের পছন্দসই নয়।
একই ধারায় ঢাকার সংবাদপত্রে অনুরূপ বেশ কয়েকটি উপসম্পাদকীয় প্রকাশ পেয়েছে। যেমন ‘এই শক্তির খেলা বিশ্বকে কোথায় নিয়ে যাবে’ কিংবা ‘কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ছে’। আবার কেউ উত্তর কোরিয়াকেই দায়ী করে লিখেছেন এমন শিরোনামে : ‘উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকা- যেন পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি’ ইত্যাদি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্ধ সা¤্রাজ্যবাদপ্রীতির প্রকাশ।
তবে মাইক হুইটনি, কী কারণে জানি না, এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেও এর দায় ওয়াশিংটনের বিদেশনীতির ওপরই চাপিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাদি বন্ধ করাতে সামরিক ব্যবস্থা নয়, তাৎক্ষণিক ‘গঠনমূলক সংলাপে’র ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন, দেশটিকে উদার মানবিক সহায়তা দিয়ে তার সঙ্গে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চুক্তি স্বাক্ষরে এগিয়ে যেতে।
বিস্ময়কর যে তিনি এমন কথাও লিখেছেন, ‘প্রয়োজনে কোরীয় উপদ্বীপ থেকে দখলদার বাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করা যেতে পারে। ’ কিন্তু ওয়াশিংটন শান্তির পথ অনুসরণ না করে আঘাত-প্রত্যাঘাতের অশান্ত পথই সঠিক বিবেচনা করছে। কারণ তার হাতে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র আছে, যথেষ্ট অর্থের আপাত সরবরাহও রয়েছে। আর বর্তমানে রয়েছেন ট্রাম্পের মতো উগ্র, বদমেজাজি একজন প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব ধ্বংস হয়ে গেলেও তাঁর কিছু যায়-আসে না।
যে কথাটি হুইটনি হয়তো বলতে ভুলে গেছেন তা হলো, বর্তমান সংকট বা সমস্যা সমাধানে কার্যকর উপায় হলো চীনের কূটনৈতিক-রাজনৈতিক সাহায্য নেওয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে সম্ভবত চীনই। সে ক্ষেত্রে একমাত্র চীনই পারে এ সংকটের মধ্যস্থতা করতে, বিবদমান দুই পক্ষেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত একটি শান্তি চুক্তিতে উপনীত হতে।
আর বিশ্ব সংঘাত নয়। চাই বিশ্বশান্তির পরিবেশ। যে কথা বিগত শতকে রঁলা-বার্তুম-আইনস্টাইন-রাসেল-রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ শান্তিবাদী বারবার উচ্চারণ করেছেন মানবসভ্যতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু ট্রাম্পযুগীয় যুক্তরাষ্ট্র কি তার আধিপত্যবাদী নীতি পরিহার করে বিশ্বশান্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ ধরবে? এখানেই যত সমস্যা, মূল সমস্যা।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

সাম্প্রতিক