স্টাফ রিপোর্টার: দেশে কর্মরত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। বরং ট্রাস্টি ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো অনিয়ম নিয়ে বলতে গেলেই উপাচার্যদের তাদের রোষানলে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে ইতিমধ্যে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপাচার্যকে পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের কাজের ক্ষেত্র আলাদা করে দেয়া আছে। আর উপাচার্যের সব কাজে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ব্যবসায়ী শ্রেণীর হাত ধরেই দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট্রি বোডে শিক্ষানুরাগী না হয়েও অনেকে ঢুকে পড়ছেন। এমনকি অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিও সেখানে জায়গা করে নিয়েছে। তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ দায়িত্বশীলদের কর্মকা-ে অযাচিত খবরদারি চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যাতে উপাচার্যরা পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ফলে উপাচার্য ছাড়াই চলছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্র জানায়, দেশের ৩৯টির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য নিয়োগ না দিয়েই চলছে। আর উপ-উপাচার্য আছেন মাত্র ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ট্রেজারার নেই প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ— পদ খালি রেখেই কার্যক্রম চালাচ্ছে ২০টির বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের মালিক ভাবতে শুরু করেছে। ফলে ভিসি নিয়োগ থেকে শুরু করে সব ধরনের নিয়োগই তাদের পছন্দমতো হতে হয়। উপাচার্যদের তারা ব্যবহার করেন অনেকটা পুতুলের মতো। যা আদৌ সমীচীন নয়।
সূত্র আরো জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে ব্যবসায়ির প্রয়োজন রয়েছে সত্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ ও কর্মকৌশল নিরূপণে শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণও জরুরি। কারণ ব্যবসায়িদের আর্থিক সহযোগিতা আর শিক্ষাবিদদের পরামর্শেই উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতারা যদি উপাচার্যকে কাজ করার স্বাধীনতা না দেয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে না। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব কাজে উপাচাযের যে ধরনের স্বাধীনতা থাকা দরকার তা নেই। আর স্বাধীনতা নেই বলেই অনেক দুর্বল ছাত্রও ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। তাতে শিক্ষার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগ যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়াও খুব জরুরি। কিন্তু এদেশে যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তারা মনে করে প্রতিষ্ঠানে তাদের পছন্দের লোককে নিয়োগ দিতে হবে। অন্তত এ দুটি ক্ষেত্রে উপাচার্যের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য কর্তৃক উপাচার্য কিংবা উপ-উপাচার্যদের অপমানিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান জানান, ট্রাস্টি সদস্যরা যদি উপাচাযের সব কাজে খবরদারি করেন তাহলে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় উপাচার্যকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না পেয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।
< Prev | Next > |
---|