আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আকুজা দা গারাংকে কিছুই থামাতে পারেনি। এমনকি সংঘাতও নয়। ৪১ বছর বয়সী এই নারী ফ্যাশন ডিজাইনার সংঘাতপূর্ণ দক্ষিণ সুদানে বার্ষিক ‘ফেস্টিভ্যাল অব ফ্যাশন অ্যান্ড আর্টস ফর পিস’ আয়োজনের প্রবক্তা। অস্থিরতার মধ্যে এবারও এই উৎসবের আয়োজন করতে চান তিনি। গত সোমবার সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আকুজা জানালেন, ‘ফেস্টিভ্যাল অব ফ্যাশন অ্যান্ড আর্টস ফর পিস’ একটি বার্ষিক উৎসব। এই উৎসবে ফ্যাশন শোসহ নানান সাংস্কৃতিক পর্ব থাকে। দক্ষিণ সুদানের সংস্কৃতি উদ্যাপন এবং তার প্রচার, প্রসার ও সুরক্ষাই এই উৎসবের লক্ষ্য। পরিবেশ অনুকূলে থাকলেও ফ্যাশন শোর মতো অনুষ্ঠান আয়োজন মোটেও সহজ নয়। সেখানে সংঘাতপূর্ণ একটি এলাকায় ফ্যাশন শো করে সাহসেরই পরিচয় দিয়েছেন আকুজা। এ কারণে তাঁর উদ্যোগ দক্ষিণ সুদানে এখনো আলোচিত। আকুজা একজন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞও বটে। তিনি শৈশবে পরিবারের সঙ্গে জন্মভূমি ছাড়েন। বসতি গড়েন যুক্তরাজ্যে। শিক্ষার্থী থাকাকালে আকুজা লক্ষ করেন, সংঘাতের কারণে তাঁর জন্মভূমির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারাচ্ছে। এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে অনুভব করে জন্মভূমিতে ফেরেন তিনি। ২০১২ সালের ৯ জুলাই ছিল দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রথম বর্ষপূর্তি।
এদিন আকুজা আয়োজিত উৎসবের প্রথম অনুষ্ঠানটি হয়। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আকুজা জানালেন, রাজধানী জুবায় উৎসব আয়োজনের কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল। তবে আয়োজনটি ছিল অনন্য ও অভূতপূর্ব। আকুজার প্রথম আয়োজনটি সফল হয়েছিল। সেই উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিল। জুবায় মানুষ এখনো উৎসবের কথা বলাবলি করে। বলবেই না কেন? কারণ, এক বিরূপ পরিস্থিতিতে চমৎকার উৎসব হয়েছিল। উৎসবে বৈচিত্র্যপূর্ণ শিল্প-সংস্কৃতির সমাহার ঘটানো হয়েছিল। কবিতাপাঠ, ঐতিহ্যবাহী নাচ ও ফ্যাশন শো সবার মন কেড়েছিল। ফ্যাশন শোতে স্থান পেয়েছিল স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজাইনারদের নকশা করা পোশাক। খ্যাতনামা মডেলরা এই ফ্যাশন শোতে অংশ নেন। ২০১৩ সালে দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধ প্রবল আকার ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমতাচ্যুত ভাইস প্রেসিডেন্টের অনুগত পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণ যায়। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এমন সংঘাতময় পরিবেশেও আকুজার দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার স্পৃহা দমে যায়নি। তবে সান্ধ্য আইন ও বিধি-নিষেধের কারণে গত বছর উৎসব করতে পারেননি তিনি। কিন্তু এবার উৎসব আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
আকুজা বলেন, উৎসবের ২০১৭ সালের সংস্করণটি অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা। উৎসবটি আগের চেয়ে ভালো হবে বলেও তাঁর বিশ্বাস। তবে আকুজা স্মরণ করিয়ে দিলেন, একটা সংঘাতময় এলাকায় ফ্যাশন শো করা সহজ নয়। সংঘাতের কারণে বহু লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফ্যাশন শোর কাজে যুক্ত পুরোনো শিল্পীদের খুঁজে পাওয়া কঠিন। আছে সহিংসতার হুমকি। অর্থনৈতিক সমস্যাও প্রকট। তবু ফ্যাশন শো আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
< Prev | Next > |
---|