মোমিন মেহেদী
tiger‘বাংলাদেশের ফুসফুস’ হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং লাখ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রামপাল কয়লা প্রকল্প বাতিল করুন অথবা সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিন।’ এমন দাবীতে সারাদেশে ‘সবুজ বিদ্রোহ’ যখন চলছে, যখন সারাদেশে সোচ্চার হচ্ছে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিগণ; তখন ‘রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না।’ বলে মন্তব্য করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। রামপালে অবস্থানরত মানুষের ভালো-মন্দ না দেখে যারা সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য কাঁদছেন, তারা সুন্দরবন গিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের সাথে দেখা করে তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা জিজ্ঞেস করে আসেন।’ বলে ঠাট্ট্রাও করেছেন। তিনি তাকে বোঝানো কথাগুলোই ময়না-টিয়া পাখির মত অবিরত বলে চলেছেন, বলছেন। সুন্দরবন যেখানে সেখান থেকে অনেক দূরে পশুর নদীর তীরে ডোবা মতো জায়গা ছিল। সেখানে পায়ে হেঁটে যাওয়া যেত না। জায়গাটা ভরাট করে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে। তাছাড়া ইউনেস্কো ঘোষিত সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলাকা থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হচ্ছে। সুতরাং সুন্দরবনের ক্ষতি হবার কোনো সম্ভাবনাই নাই বলে তিনি জানান। শেখ হাসিনা বলেছেন, রামপালে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে সেটি আলট্রা সুপার ডিজিটাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র। যা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে আমরা পাঁচ লাখ বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতিমধ্যে দেড় লাখ রোপণ করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে ওই এলাকার মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা আসবে বলার সাথে সাথে তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রের চিমনি অনেক উঁচু হবে যা পরিবেশ-বান্ধব। আর কয়লার যে ছাই হবে সেটি কিনতে সিমেন্ট কারখানাগুলো এখনি কন্ট্রাক্ট করছে। কয়লা কাভার্ড কার্গোতে করে আনা হবে যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়। সুন্দরবন এলাকায় এক হাজার মেট্রিক টন কয়লাবাহী জাহাজ ডুবে যাবার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন বা আন্দোলন করছেন আমি তাদের জিজ্ঞেস করবো এক হাজার মেট্রিক টন কয়লা যে পানিতে ডুবে গেলো এতে ওই এলাকার পরিবেশের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে? সে ব্যাপারে আন্দোলনকারীরা ওই এলাকায় গেছেন কিনা, দেখেছেন কিনা বা যাচাই করেছেন কিনা প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের তো যাচাই করা উচিত, সেখানে যাওয়া উচিত। কিন্তু তারা সেখানে না গিয়ে ঢাকায় বসে বসে আন্দোলন করছেন। প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কথা উল্লেখ করে বলেন, এ খনির কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র করলাম। এটি সাধারণ মানের একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটা কিন্তু আলট্রা সুপার বিদ্যুৎকেন্দ্র না এবং ওখানে কয়লা নেয়া হচ্ছে খোলা অবস্থায়। ওই এলাকায় কতটুকু পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে? আমি ওই এলাকায় নিজে গিয়েছি, হেলিকপ্টারে করে গিয়েছি, ছবি তুলেছি। ধানগাছ পরিবেশ নষ্ট হয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়েছে এমন কোনো ঘটনা আমার নজরে আসেনি। বরং কয়লা উত্তোলন করতে গিয়ে ওই জায়গাটা দেবে গেছে, ছয় সাত ফিট নিচে নেমে গেছে। ওই এলাকা পানিতে ভরে গেছে। ওই এলাকার মানুষদের নিয়ে গিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বসতি স্থাপন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। দিনাজপুরের মতো ঘনবসতি এলাকায় সাধারণ মানের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পরিবেশের ক্ষতি বা জমির কোনো উর্বরতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠেনি বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান। তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। আমরা সরকার পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১৫ প্রণয়ন করেছি। পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ৯ হাজার ৫৬০ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আপাতকালীন সময়ের জন্য খাদ্যশস্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। বেশকিছু সংরক্ষণাগার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মাত্র ১৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা যায়। বিগত দুই যুগে নতুন কোনো শস্য গুদাম তৈরি হয়নি। আমরা ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েকটি শস্য গুদাম স্থাপনের পরিকল্পনা করি। কিন্তু পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ অব্যাহত না রাখায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কে বা কারা রাতকে দিন, আর দিনকে রাত বানিয়ে বোঝায় জানি না, তবে এতটুকু জানি যে, যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একবারের জন্যও নিজের বিবেক বোধ আর প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতেন বিষয়টি দেখার জন্য, তাহলেই তিনি নির্ঘাত খাদের কিনার থেকে রক্ষা করতে তৈরি হতেন আমাদের সুন্দরবনের জন্য-সবুজের জন্য। যে সবুজের জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিগণ বারবার ‘সবুজ বিদ্রোহ’ করছে। গাছ লাগাচ্ছে, অপয়োজনে গাছ না কাটার জন্য নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন করছে এবং ল্যান্ড জোনিং আইন বাস্তবায়নে সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ-আহবান জানাচ্ছে। একই সাথে তারা রাজনৈতিক দল-মতের উর্ধ্বে উঠে স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতিকদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দুয়ারে দুয়ারে পৌছে দিচ্ছে- দেশটা আমাদের সবার। তাই দেশের প্রতি সবার কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকার দেশ পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের দেশ পরিচালনার জন্য পাঁচ-দশ বছরের ক্ষমতার সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয় নয়। তবে রাজনীতিবিদদের ভালো-মন্দ কাজের সাথে দেশের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জড়িত। দেশে বসবাসের পরিবেশ এবং উন্নয়ন নিয়ে সচেতন নাগরিকেরা যে মতামত দেবেন, সরকার তা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক কাজটি করবে, সেটাই সবার প্রত্যাশা। সত্যিকারের উন্নয়ন কখনো মানুষকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে না। কিন্তু রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র নিয়ে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। পক্ষে কথা বলছেন শুধু প্রকল্পের সাথে জড়িত সুবিধাভোগী, সরকারদলীয় নেতা বা আস্থাভাজন ব্যক্তিরা। পক্ষান্তরে ইউনেস্কো, কয়লা বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীলসমাজের সদস্য, সচেতন নাগরিকসমাজ, রাজনীতিক, দেশী-বিদেশী পরিবেশকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ সবাই বলছেন রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হুমকির মুখে পড়বে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন।’

জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) একটি প্রতিনিধিদল রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও সুন্দরবন পরিদর্শন করেছে। বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিবেদনে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষতির কারণে বাংলাদেশ সরকারকে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার রামপাল প্রকল্পে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, এতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেইÑ এটা ইউনেস্কো ও বিশ্ব ঐতিহ্য কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য গত অক্টোবর মাসে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠায় ইউনেস্কোর সদর দফতর প্যারিসে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সফরের পরও ইউনেস্কো রামপাল প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। ২০১৭ সালের ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম সভায় সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। ইউনেস্কো রামপাল নিয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটা জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অনুমোদন করেছেন। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের অনুমোদনের পর সরকার যদি রামপাল প্রকল্প থেকে সরে না আসে তবে আগামীতে বাংলাদেশের অবস্থান ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘের সবুজ জলবায়ু তহবিলের (জিসিএফ) নীতিনির্ধারণী ফোরামের স্থায়ী সদস্যপদ হারিয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮Ñ এ তিন বছরের জন্য জিসিএফ স্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ; কিন্তু দায়িত্ব শেষ করার দুই বছর আগেই স্থায়ী সদস্যপদ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নতুন করে স্থায়ী সদস্যপদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আফ্রিকার দেশ মালাবিকে। এরই মধ্যে এ তহবিল থেকে বাংলাদেশের জন্য আট কোটি ডলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং আরো আট কোটি ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থায়ী সদস্যপদ হারানোয় ভবিষ্যতে এ তহবিল থেকে টাকা পাওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (সূত্র : কালের কণ্ঠ, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬)।

একই সাথে মনে রাখতে হবে যে, জনগনের জন্য যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলা হচ্ছে, সেই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রযুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারতীয় নাগরিক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য ২৭ অক্টোবর ২০১৬ টেলিফোনে দৈনিক কালের কন্ঠকে বলেছেন, ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি বলে কোনো প্রযুক্তি পৃথিবীতে নেই। মূলত সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির আধুনিক সংস্করণকে কেউ কেউ আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি বলে থাকে।’ তাহলে প্রশ্ন জাগে, আপনারা কেন আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের কথা এত দিন বলে এসেছেন? এ প্রশ্নের জবাবে উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, ‘আপনাদের এখানে এত পন্ডিত, এটি জানতাম না। রামপাল বিরোধিতাকারীরা না জেনেই এর বিরোধিতা করেছে। আমাদের এত নাটক করার দরকার নেই। আপনাদের এখানে নাটকবাজি হয় বলে প্রথমে বলেছিলাম, আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হবে।’ আলটা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি বিশ্বে নেই বলে বিআইপিসিএলের এমডি দাবি করলেও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাতা ভারত হেভি ইলেকট্রিক লিমিটেড (ভেল) এনটিপিসির সঙ্গে যৌথভাবে একটি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি করেছে। গত ১৬ আগস্ট ভেলের ওয়েবসাইটে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ১০ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অ্যাডভান্সড আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার জন্য ভেলকে ২৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। অ্যাডভান্সড আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা গেলে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির তুলনায় ৫ শতাংশ কয়লা কম পুড়িয়ে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। তথ্য গোপন বা প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে রামপাল দরপত্রের বি-১, তাপীয় জেনারেটর কেন্দ্র চ্যাপ্টারের বি-১-১ পাতায়, সেখানে পাওয়া গেছে কেন্দ্রটি কোন প্রযুক্তির হবে। দরপত্রের ওই অংশে বলা হয়েছে, জেনারেটরটি হতে হবে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির। দরপত্রে যখন উল্লেখ রয়েছে কেন্দ্রটি হবে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির, সেখানে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ নেই। (সূত্র : কালের কণ্ঠ ২৯ অক্টোবর ২০১৬)।

বিশ্ব যখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক শক্তি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তখন আমরা নতুন করে ধাবিত হচ্ছি কয়লার মতো দূষিত জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে। অথচ সরকার দাবি করছে, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সেটা বলতে গেলে, অর্জন হয়েছে কয়লা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই। তাহলে প্রশ্ন আসছে, আমাদের প্রজন্মকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে নোংরা জ্বালানি কয়লা নিয়ে এত আগ্রহ কেন? দীর্ঘকাল থেকে আমরা ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছি। যেহেতু তেলের দাম আমাদের ক্রয়সীমার মধ্যে আছে, তাই আপাতত আমরা তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারি। কয়লাদূষণ থেকে মুক্তি পেতে ভারত নিজেই এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দূষণের কারণে গত বছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত চারটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প (১৬,০০০ মেগাওয়াট) বাতিল করেছে এবং ২০২২ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারতের আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ তামিলনাড়– রাজ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে সংস্থাটির ধারণা। আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির মতে, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতবাসী যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি বিশ্বের জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব রোধে অনুকরণীয় হবে ভারত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশল অনেক সুদূর প্রসারি। তাঁর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি ছাত্র-যুব-জনতার রাজনৈতিক দল নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি’র পক্ষ থেকে- ‘কালোহীন নিরন্তর শাদা-স্বচ্ছতা-সততার রাজনৈতিকধারায় আপনিও এগিয়ে আসুন- দেশ বাঁচান-গাছ লাগান-সুন্দরবন বাঁচান; কেননা, আপনি জাতির কন্যা-আপনি তো অনন্যা...

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি

সাম্প্রতিক