স্টাফ রিপোর্টার: রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে তা এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা বাগেরহাটবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, আমাদের কৃষিনির্ভর জাতীয় অর্থনীতিতে বাগেরহাট একটা ভূমিকা পালন করছে। বাগেরহাট এখন একটি বিগ আরবান এরিয়া হয়ে গেছে। আর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হয়ে গেলে এই এলাকাটি একটা ‘পাওয়ার হাব’ হয়ে যাবে।গত রোববার রামপাল উপজেলার সাপমারী-কৈর্গদাসকাঠি মৌজায় ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের একথা বলেন মুহিত।
সুন্দরবনের কাছে নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুদৎ কেন্দ্র বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটিকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে বলে পরিবেশবাদীদের দাবি। তাদের বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে সরকার বলছে, পরিবেশের ক্ষতি না করেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে নানা শিল্প গড়ে উঠে তাও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলবে বলে পরিবেশবাদীদের দাবি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর মংলা বন্দর এবং বাগেরহাট শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাগেরহাট অনেক বেশি পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে পর্যটন জোনের জন্য কিছু করা যেতে পারে। বাগেরহাটে এখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। অচল হয়ে পড়া মংলা বন্দর বর্তমান সরকারই উন্নয়ন করেছে। মংলাতে অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে।
খানজাহান আলীর মাজারের প্রসঙ্গ ধরে মুহিত বলেন, তিনি একদিকে যেন ছিলেন একজন জেনারেল (শাসক), অন্যদিকে ছিলেন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি। তার নির্মিত ষাটগম্বুজ (মসজিদ) তো ওয়ান অব দ্য ফাইনেস্ট মস্ক (মসজিদ) ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। এতবড় গম্বুজওয়ালা সুন্দর মসজিদ আর কোথায় পাওয়া যাবে। অর্থমন্ত্রী বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ ঘুরে দেখার পর জেলা প্রশাসকের বাসভবনেও যান। সরকারি কর্মজীবনে বাগেরহাটে ওই বাড়িটিতে ছিলেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ মীর শওকাত আলী বাদশা, জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন।
< Prev | Next > |
---|