রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০২২
Homeঅস্ট্রেলিয়ানির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী আমিনা হায়াতকে

নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী আমিনা হায়াতকে

হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে ঝলসে গেছে সমস্ত শরীর
শেষবারের মত মেয়ের সুন্দর মুখটি দেখতে পারছেননা তার পিতা-মাতা

বিদেশবাংলা রিপোর্ট
নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে উনিশ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী আমিনা হায়াতকে।
হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে সমস্ত শরীর ঝলসে যাওয়ায় শেষবারের মত মেয়ের সুন্দর মুখটি দেখতে পারছেননা তার পিতা-মাতা। অনিয়ন্ত্রিত শোকে ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা নিহত আমিনা হায়াতের বাবা-মা আবু হায়াত (৪১) ও মাহাফুজা হায়াত (৩৯)। মেয়ের এমন মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েছেন মা ও বাবা। মায়ের বুকফাটা আহাজারি! “আমি আমার মেয়েকে চাই, আমি আমার মেয়েকে চাই,” শেষবারের মত আমার মেয়ের মুখ দেখতে চাই ! “আমার মেয়ে আসছে না কেন”? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেধাবী তরুণীর অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। বর্বোরচিত এ হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচনা ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন প্রবাসি বাংলাদেশিরা।

কান্নায় ভেঙ্গে পড়া মিস্টার এবং মিসেস হায়াত তাদের মেয়েকে খুন করার পর কথা বলেছেন।

স্থানীয় সময় গত ৩০ জানুয়ারি (রোববার) সিডনির উত্তর প্যারামাট্টায় পেনাল্ট হিলস রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাথটাব থেকে উদ্ধার করা আমিনা হায়াতের মৃতদেহ। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ২১ বছর বয়সী মিরাজ জাফর আমিনাকে হত্যা করার পর খুনের আলামত ধ্বংস করতে মৃতদেহটি রাসায়নিক দ্রব্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিল।

এই বাথটাবে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিয়ে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল আমিনাকে

যার ফলে আমিনার সমস্ত ঝলসে যায়। ধারণা করা হচ্ছে আর কিছু সময় তার লাশ বাথটাবে থাকলে হাড় ছাড়া কোন শরীরের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যেতনা। আমিনার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের এক সদস্য জরুরি সেবায় বিষয়টি জানান। এরপর আমিনা বাসায় গিয়ে পুলিশ মৃতদেহের সন্ধান পায়।

যে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আরমিনা হায়াতের লাশ পাওয়া গেছে সেখানে পুলিশ।

আমিনা ওয়েস্টার্ণ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মিরাজ জাফরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং গোপনে বিয়ে হয়েছিল বলে জানা যায়। তারা দু’জন উত্তর প্যারামাট্টায় পেনাল্ট হিলস রোডের এই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। মিসেস আনিমা হায়াতের বাবা-মা বলেছেন যে মেরাজের সাথে চলে যাওয়ার পর থেকে তারা তার সাথে তেমন যোগাযোগ হতনা। আমিনা হায়াতের বাবা আবু হায়াত ও মা মাহাফুজা হায়াতের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তাঁরা ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। তখন আমিনা ক্লাস ফাইভের ছাত্রী ছিল।

তার স্বপ্ন ছিল সার্জন হওয়ার।

আমিনা খুব মিষ্টভাষী ও হাসি-খুশী ছিলেন। স্থানীয় একটি মেক-আপ স্টোরের মালিক প্রীতা মামুন বলেন, পণ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য দোকানে আসার পর তিনি মিসেস হায়াতের সাথে পরিচিত হন। তিনি ১৯ বছর বয়সীকে “দয়াময় এবং সহায়ক মেয়ে” হিসেবে বর্ণনা করেন। এমনকি যারা মিস হায়াতকে উত্তর প্যারামাট্টায় চলে যাওয়ার পর দেখেছেন তারা বলেছেন যে তিনি অবিশ্বাস্যভাবে সংরক্ষিত ছিলেন। স্থানীয়রা মিসেস হায়াতকে একজন আদর্শ প্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করলেও তার সাথে খুব কমই কথা বলত। জাফর প্রতিবেশীদের বলেছিলেন যে তিনি পাকিস্তান থেকে এসেছেন।
তারা বলে যে মিসেস হায়াতকে “খুব খুশি মনে থাকতেন” এবং তিনি সবসময় গান বাজিয়েছিলেন।

আমিনা হায়াত ও মেরাজ জাফর।

আমিনার হত্যাকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মিরাজ জাফর গত ৩১ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে ব্যাঙ্কস্টাউন থানায় হাজির হয় যখন পুলিশ তথ্যের জন্য জনসাধারণের কাছে আবেদন জারি করে এবং মিরাজের একটি ছবি প্রকাশ করে। তার পরে সেই রাতে মিসেস আমিনা হায়াতের হত্যার অভিযোগ আনা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে ব্যাঙ্কটাউন স্থানীয় আদালতে তার মামলা তালিকাভুক্ত করে জামিন প্রত্যাখ্যান করা হয়। জাফরের আইনজীবী মোহাম্মাদ সাকর তার মক্কেলের পক্ষে আদালতে হাজির হন এবং সংক্ষিপ্ত প্রমাণ প্রস্তুত করার জন্য সময়ের আবেদন করেন এবং ৫ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করা হয়।
মিঃ সাকর আদালতকে বলেছেন যে তিনি তার মক্কেলের জন্য জামিনের আবেদন করতে পারেন “যথাযথ সময়ে”।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়, মিঃ সাকর বলেছিলেন যে তার মক্কেল “বিচলিত” ছিলেন এবং এই পর্যায়ে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনও মন্তব্য নেই। মিঃ সাকর বলেন, মিঃ জাফরকে হত্যার অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে একবার তারা পুলিশের সংক্ষিপ্ত প্রমাণ বিবেচনা করলে।

মিঃ সাকর বলেছেন যে তার ক্লায়েন্ট থানায় উপস্থিত হয়ে “সঠিক কাজ করেছে” যখন অফিসাররা তার অবস্থানের জন্য আবেদন জারি করেছিল।
তিনি বলেছিলেন যে তার মক্কেলের কোন আঘাত বা পরিবারের সদস্যদের সমর্থন ছিল কিনা এবং মিসেস হায়াতের সাথে তার সম্পর্কের সঠিক প্রকৃতি কী ছিল সে বিষয়ে তিনি এই মুহুর্তে মন্তব্য করতে পারবেন না।কবে নাগাদ আমিনা হায়াতের জানাজা ও দাফন হতে পারে বলে জানতে চাওয়া হলে লাকেম্বার ব্যবসায়ী ও সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মাদ জামান টিটুর এ প্রতিবেদকে বলেন,

পরিবারের পক্ষ থেকে আমি পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি। আগামি শুক্রবার জানাজা ও দাফন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগেই আমি বিষয়টি আপনাদেরকে জানিয়ে দিবো।

[ছবি ও সূত্রঃ সেভেন নিউজ]

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস