বৃহস্পতিবার, মে ১৯, ২০২২
Homeবাংলাদেশমনোয়নপত্র বাতিল ইসির ব্যাপার, আ.লীগের কিছু করার নেই: ওবায়দুল কাদের

মনোয়নপত্র বাতিল ইসির ব্যাপার, আ.লীগের কিছু করার নেই: ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘একেপেশে খেলা’ বা ‘ফাঁকা মাঠে গোল করার’ কোনো পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন বাতিলের যে ঘটনা ঘটেছে, এটা নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের কারণেই হয়েছে। এটা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যাপার। এখানে আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। গত রোববার সারাদেশে একযোগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপি ও জোটের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী লড়াইয়ের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। মনোনয়ন বাতিলের এবার রেকর্ড হয়েছে। অতীতে আর কখনই এত বেশি সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র অনুযায়ী, সারা দেশের ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। সারা দেশে যে সংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাতে দেখা গেছে বেশিরভাগই বিএনপির মনোনয়নপত্র। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, সরকারের বিজয়ের পথ সুগম করতেই ২০ দলীয় জোটের ৮০ প্রার্থীকে মনোনয়ন বঞ্ছিত করা হয়েছে। অবশ্য যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন শুনানি করে আপিল নিষ্পত্তি করবে ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর। গতকাল সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো অবস্থাতেই আমরা একতরফা কোনো অবস্থা সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না। এটা একপেশে খেলা হোক, এটা একপেশে ম্যাচ হোক- এটা আমরা চাই না। ‘গণতন্ত্র হচ্ছে দুই চাকার বাইসাইকেল’- এমনটা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটা চাকার অপজিশন আরেকটা চাকা। এখানে কে অপজিশন হবে সেটা গণমানুষ ঠিক করবে। কিন্তু এখানে অন্যান্যের ঠেকিয়ে, আটকে রেখে আমরা একা নির্বাচন করব, ফাঁকা মাঠে গোল দেব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোটেই এ ধরনের ইচ্ছে পোষণ করেন না। এটা আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে, দেশবাসী, জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই। আমাদের তো এই দেশেই থাকতে হবে। জনগণের মাঝেই থাকতে হবে। আজকে একটা কথা বললাম রাজনীতিবিদ হিসেবে, একটা রাজনীতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে, এই কথার যদি ২৫-২৬ দিন পরে ব্যত্যয় ঘটে, তা হলে মানুষ তো এটা মনে রাখবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, কাজেই ফাঁকা বুলি, ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। যা সত্য তাই বলছি, আমরা একটা ক্রেডিবল ইলেকশন করতে চাই, একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আমরা কতে চাই। কারণ, গত নির্বাচনে বিএনপি অনুপস্থিত থেকে একটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে, আপাতদৃষ্টিতে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য, এই পার্লামেন্টের সদস্যই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবের হোসেন চৌধুরী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনে (সিপিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশে-বিদেশে সবার দৃষ্টি রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এই নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষুণœ হোক সেটা আমরা চাই না, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রাখেন, সরকারের সম্পৃক্ততা থাকলে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হল কিভাবে? মনোনয়নপত্র বতিলের প্রসঙ্গে বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বতিলের বিষয়টি ‘সরকারের নীল নকশারই’ অংশ। গত রোববার তিনি বলেন, ‘বেছে বেছে’ তাদের জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিজভীর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন আছে বাতিল করার। সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না। যদি তাই হত, তা হলে আমাদের সবচেয়ে বড় শরিক দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব বাদ পড়বেন, এটা কি আমরা চাইব? তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিষয়টি তো আদালত আগেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে। দুই বছরের বেশি যাঁরা কারাদ-ে দন্ডিত, তারা নির্বাচন করতে পারবে না। এটা উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত, উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ দ্যাট। আমাদেরও তো অনেকে বাদ গেছে, সেখানে আমাদের কি করার আছে? মনোনয়নপত্র যেসব কারণে বাতিল হয়, সেগুলো তো নির্বাচন কমিশন সব সময় আমলে নেয়। নতুন করে তো কোনো আইন করা হয়নি। হাজী সেলিমের মনোনয়ন কেন বাদ হল না এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, হাজী সেলিমের বিষয়ে যদি বলেন, তা হলে আমরা সেখানে দুজন কেন প্রার্থী দিলাম? আমাদের সন্দেহ ছিল হাজি সেলিম বাদ যেতে পারে। সেজন্য আমরা আমাদের মহানগর দক্ষিণের সভাপতির নাম দুই নম্বরে রেখেছিলাম। যেসব জায়গায় আমাদের সংশয় ছিল যে প্রার্থী নির্বাচনি আইনে টিকবে কিনা, সে ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু দুইজন প্রার্থী দিয়েছি। আমরা ধরে নিয়েছিলাম হয়তো হাজি সেলিম টিকবে না। কিন্তু তিনি আইনে টিকে গেছেন, এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। আওয়ামী লীগের জয়ের পথ প্রশস্ত করতেই নামিদামি প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মওদুদ সাহেব। খুব বিশ্বস্ত মাধ্যম থেকে জানানো হয়েছিল যে তার মনোনয়নপত্রে কিছু কিছু ত্রুটি আছে। আমি তখন মন্তব্য করেছিলাম মওদুদ আহমদ সাহেব নির্বাচন না করলে আমি খুব কষ্ট পাব। তা নাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন সেখানে হবে না। আমার মধ্যে কিন্তু এই মানসিকতা কাজ করে না। মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক অলি আহমেদের অভিযোগেরও জবাব দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, অলি আহমেদ সাহেব আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি কিছু কিছু সমস্যা তুলে ধরেছিলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে। আমি তখনই তাকে বলেছি যে ‘দেখুন, এখন তো প্রশাসন, পুলিশ- সব নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তারপরও আমি দলের সেক্রেটারি হিসেবে চেষ্টা করব যাতে আপনার এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোনোভাবে ক্ষুন্ন না হয়’। আমি সেখানে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, আমরা কোনো অবস্থাতেই একতরফা কোনো কিছু সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাইনা। তিনি বলেন, গণতন্ত্র দুই চাকার একটি সাইকেল। এক চাকা ক্ষমতাসীন দল এবং আরেক চাকা বিরোধীদল। কোনো চাকায় কে থাকবে এটা জনগণই সিদ্ধান্ত নিবে। ফাঁকা মাঠে গোল দিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এধরনের ইচ্ছে কখনই পোষণ করেন না। ফাঁকা বুলি দিতে চাই না, আমরা একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। বিএনপির নির্বাচন বর্জনের হুমকির মধ্যে বাস্তবতা কিছু দেখতে পাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমার বিশ্বাস তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে হুমকি দিচ্ছে, দেশের জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। এটাই আমি তাদের কাছে প্রত্যাশা করি। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিষ্কার হতে থাকে যে কারা নির্বাচনে বিজয়ী হতে যাচ্ছে। এটা আপনারাও বুঝতে পারেন, আমার বলার দরকার নেই। কোনো ধরনের অহমিকা প্রকাশ করতে চাই না। কারোই অহংকার করা উচিত নয়। যদিও প্রতিপক্ষের সাজে না এমন এমন অহংকারবোধ তারা করছে। এই অহংকার কিন্তু পতনের কারণ। আজকে কাদের সিদ্দিকী নিজের মনোনয়ন বাতিলের পর হতাশায় কত কথাই না বলছেন। আমরা তাকে কোনো কটূ কথা বলব না।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস