রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০২২
Homeমতামতপ্রেরণার উৎস ৭ মার্চের ভাষণ

প্রেরণার উৎস ৭ মার্চের ভাষণ

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে-
‘কখন আসবে কবি?’
কবি নির্মলেন্দু গুণের দৃষ্টিতে এভাবেই ধরা পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। ১৯৭১ সালের সেদিন এই ভাষণ শোনার জন্য বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষ জড়ো হয়েছিল। শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রথম পর্ব ছিল এই ভাষণ। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানের ফল ভালো হবে না, তা বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, তাইতো তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে…আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি…’।
তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং ইয়াহিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এক দিকে ইয়াহিয়ার নির্দেশ যেত, অপর দিকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ যেত। বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশই মেনে চলতেন। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, গাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেছে। ইয়াহিয়ার সব নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগ আন্দোলনে সেই অভূতপূর্ব সাড়া ইতিহাসে বিরল ঘটনা। যিনি নিরন্তর দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতেন, তার জন্য এ বিষয় বোঝা কঠিন ছিল না যে, এ দেশের মানুষকে পাকিস্তানের শাসকচক্র বেশি দিন তাদের শৃঙ্খলে রাখতে পারবে না। তাই তো বঙ্গবন্ধু তাদের উদ্দেশ করে ৭ মার্চের ভাষণে দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন, ‘৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।’ এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনাও দিয়েছিলেন। দেশকে স্বাধীন ও মুক্ত করার সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে উত্তাল জনসমুদ্রে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ্।’ তিনি দীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
একাত্তরে অগ্নিঝরা মার্চে যে ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক এসেছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো প্রেরণা নেন তার পিতার সেই ভাষণ থেকে।
মূলত ৭ মার্চের ভাষণই একটি জাতির জন্ম দিয়েছে। এ কালজয়ী ভাষণের মধ্যদিয়েই বঙ্গবন্ধু শুধু একজন স্বাধীনতার মহানায়কই নন, কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। এ ভাষণেই তিনি বাঙালির স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
শুরুতে উল্লেখ করা কবি নির্মলেন্দু গুণের ওই কবিতার শেষ কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে আমার লেখা শেষ করছি-
‘গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতাখানি :
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
সেই থেকে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি আমাদের।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস