06-Koriaআন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোরীয় উপদ্বীপের আকাশে জাপানকে সঙ্গে নিয়ে দুটি বোমারু বিমান উড়িয়ে শক্তি প্রদর্শন করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর দুটি বি-১বি বোমারু বিমান গুয়াম ঘাঁটি থেকে উড়াল দেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, বর্তমান অবস্থা হলো ঝড়ের আগে শান্ত অবস্থা। এর এক দিন পর টুইটারে তিনি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে কোনো কাজ হবে না। ‘কাজ হবে শুধু এক পথে।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকি উপেক্ষা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানিয়েছিলেন, উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তাঁর দপ্তর উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে। নিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প টুইটারে বলেছিলেন, টিলারসন অকারণে তাঁর সময় নষ্ট করছেন। এ ঘটনার পরই কোরিয়ার আকাশে মার্কিন সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমানের মহড়া দেখা গেল।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাঘাঁটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোরিয়া উপদ্বীপে মার্কিন সেনাবাহিনীর দুটি বিমানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার এফ-১৫কে নামের দুটি যুদ্ধবিমানও ছিল। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোরভাবে নিয়েছে, এই পদক্ষেপ তা-ই প্রমাণ করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় ঢোকার পর পূর্ব উপকূলে দুটি বিমান থেকে এয়ার-টু-গ্রাউন্ড ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার ও চীনের মধ্যকার জলসীমায় পুনরায় এই পরীক্ষা চালানো হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনী পৃথক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কোরিয়া উপদ্বীপে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে রাতের বেলা এটাই প্রথম যুদ্ধবিমান মহড়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, এটি নিয়মিত অনুশীলনেরই একটি অংশ। লক্ষ্য সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও জোরদার করা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া জোট কতটা শক্তিশালী, তা বোঝানোরও একটি উপায়।
মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর প্যাট্রিক অ্যাপলগেট বলেন, ‘জোটকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এটি আমাদের শক্তির প্রাথমিক মহড়া।’
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া জাপানের ওপর দিয়ে তাদের ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির চালানো পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, তারা হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। হাইড্রোজেন বোমা পারমাণবিক বোমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী, যা উত্তর কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম। এমনটি তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর হুমকি দেয়। এরপরই শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি।

সাম্প্রতিক